রাজশাহীতে বরখাস্ত হওয়া পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব হাসানকে (৩৫) শনিবার রাত ১১টার দিকে নগরীর ভদ্রার হজের মোড় এলাকায় গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে—নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা, মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করা।
ঘটনার সময় পরিস্থিতি শান্ত করতে সাহায্য করেন জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর সেক্রেটারি জসিম উদ্দিন সরকার এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক মহানগর সভাপতি খাইরুল ইসলাম। তারা জনতাকে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। জসিম উদ্দিন বলেন, হাসান অসংখ্য বিএনপি–জামায়াত ও সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও জখম করেছেন। তার বিরুদ্ধে জনতার ক্ষোভ এবং আইনের প্রয়োগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মাহবুব হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষে ২০১৩ সালে এসআই হিসেবে পুলিশের চাকরি নেন। তিনি রাজশাহী নগরের মতিহার থানায় কর্মরত ছিলেন, পরে ২০১৬ সালে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) যোগদান করেন। চাকরিজীবনের শুরু থেকেই তিনি বেপরোয়া হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে অর্থ আদায় করতেন।
এক বিশেষ মামলা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর মাহবুব হাসান রাজীব আলী নামে এক ব্যক্তিকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তুলে নিয়ে যান এবং পাঁচ লাখ টাকা আদায় করেন। পরবর্তীতে রাজীবকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ঘটনার পর নগরের চন্দ্রিমা থানার ওসি মেহেদী মাসুদ জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পরে হাসানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বোয়ালিয়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে এবং ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র জানান, মাহবুব হাসান সর্বশেষ নগর ডিবিতে কর্মরত ছিলেন এবং বরখাস্ত হয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে, এবং জনতা আইন প্রয়োগে সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়টি নজরকাড়া।