মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
সমুদ্রগামী মাছ ধরার ওপর জারি করা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার একমাস পেরিয়ে গেলেও এখনও সরকারি সহায়তা পৌঁছেনি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শত শত জেলে পরিবারের ঘরে। এতে করে এসব পরিবার চরম খাদ্য সংকট ও দারিদ্র্যের মুখোমুখি হয়ে পড়েছে।
সরকার প্রতিবছর মাছের প্রজনন মৌসুমে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়, যাতে সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন ও পরিবেশ রক্ষা পায়। পাশাপাশি ঘোষণা করা হয়, এই সময়ে জেলেদের জন্য সরকারি ত্রাণসামগ্রী প্রদান করা হবে। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বছরের পর বছর জেলেরা সহায়তা পেতে দেরি বা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের জেলে মো. সফিকুল, “নিষেধাজ্ঞার এক মাস পেরিয়ে গেল, কিন্তু এখনো একটা চালের বস্তাও হাতে পাইনি। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি, বাজারে ধার করে চাল এনে খেতে হচ্ছে।”
একই কথা জানান মাতারবাড়ির জেলে আবদুল কাদের। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ভোট দেই, কিন্তু দুঃসময়ে আমাদের পাশে কেউ থাকে না। সবকিছু দলীয় লোকজন ভাগ করে নেয়।”
এ বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাহেদুল ইসলাম বলেন, “সরকারি সহায়তার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। বরাদ্দ এলেই বিতরণ শুরু হবে। কিছু প্রশাসনিক কারণে বিলম্ব হচ্ছে, তবে আমরা দ্রুতই বিতরণ শুরু করব।”
স্থানীয় নাগরিক সমাজ মনে করছে, প্রতি বছর একই রকম দেরি প্রশাসনিক ব্যর্থতার পরিচায়ক। তারা অবিলম্বে সহায়তা কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন, যেন মহেশখালীর জেলে পরিবারগুলো ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের মধ্যে না পড়ে।