ইরানে লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যও এখন কিস্তিতে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এতে দেশটির মানুষের জীবনযাত্রা ও কেনাকাটার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।
চলতি বছরে প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইরানে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ৭৩ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যসহ গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অনেক নিত্যপণ্যের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে শুধু ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন বা অন্যান্য দামি পণ্য কিস্তিতে বিক্রি করা হলেও এখন চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্যও কিস্তিতে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন সুপারশপ ও খুচরা দোকানে কয়েক মাসের কিস্তি সুবিধায় খাবার, স্বাস্থ্যসামগ্রী ও গৃহস্থালির পণ্য কেনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘এঘতেসাদ নিউজ’ বলেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিস্তিতে বিক্রি হওয়া স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে মূল্যস্ফীতি মানুষের পারিবারিক বাজেটে কতটা চাপ তৈরি করেছে।
মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়েছে ভোক্তাদের কেনাকাটার ধরনেও। নতুন পণ্য কেনার সামর্থ্য হারিয়ে অনেকেই এখন ব্যবহৃত বা সেকেন্ড-হ্যান্ড পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। দেশটিতে ব্যবহৃত ফ্রিজ, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
তেহরানের বাসিন্দা মরিয়ম নামের এক নারী স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, নতুন ফ্রিজের উচ্চমূল্যের কারণে তিনি অর্ধেক দামে একটি ব্যবহৃত ফ্রিজ কিনেছেন। তার ভাষায়, একসঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করার চেয়ে কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে পুরোনো পণ্য কেনাই এখন বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নেগিন। অনলাইনে ক্লাস করার জন্য একটি ল্যাপটপ প্রয়োজন হলেও নতুন ল্যাপটপের দাম বেশি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি একটি ব্যবহৃত ল্যাপটপ কিনেছেন। এতে ঋণ ছাড়াই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছেন বলে জানান তিনি।
ইলেকট্রনিক ও গৃহস্থালি পণ্যের বিক্রেতাদের দাবি, আগের বছরের তুলনায় ব্যবহৃত পণ্যের চাহিদা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, খাদ্য, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য সেবার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মানুষের আয়ের বড় অংশ এখন নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই ব্যয় হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৫৩ শতাংশ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে দুধ, মাংস, চাল, ভোজ্যতেল ও ডিমের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির কারণে কিস্তিতে কেনাকাটা বা ব্যবহৃত পণ্য কেনা এখন ইরানের অনেক মানুষের জন্য বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার বাস্তব উপায় হয়ে উঠেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park