একদিকে যুদ্ধবিরতির আবহ, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় আয়োজনের ব্যতিক্রমী দৃশ্য। ইরানের রাজধানী তেহরানে এক হাজার দম্পতির জন্য বিশাল গণবিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে দেশটির সরকার। মঙ্গলবার (১৯ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই গণবিবাহ অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি দেশাত্মবোধক নানা প্রতীক ও সামরিক শক্তির প্রদর্শনও তুলে ধরা হয়েছে। বিয়ের পরিবেশে ছিল জাতীয় পতাকা, বিভিন্ন প্রতিকৃতি এবং সাধারণত বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত বিলাসবহুল লিমুজিনের পরিবর্তে সামরিক যানবাহন। এসব সামরিক গাড়ি ফুল ও রঙিন বেলুন দিয়ে সাজিয়ে বিয়ের গাড়ি ও বহর হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা পুরো আয়োজনকে আরও নজরকাড়া করে তোলে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান ভেন্যু ছিল ইমাম হোসেন স্কয়ার। সেখানে একদিনেই ১১০টি দম্পতির বিয়ে সম্পন্ন হয়। নবদম্পতিদের বহর যখন রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন আশপাশে দেখা যায় সাজানো সামরিক যান এবং নানা প্রতীকী প্রদর্শনী। উপস্থিতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গোলাপি ও সাদা রঙে সাজানো সামরিক যান, যা বরদের ব্যবহৃত গাড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
এদিকে বিয়ের অনুষ্ঠানে আরও একটি ব্যতিক্রমী দৃশ্য ছিল মিসাইল প্রদর্শন। আয়োজনে দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দেশীয় মিসাইলও প্রদর্শন করা হয়। নবদম্পতিদের পেছনে মিসাইল প্রদর্শনের এই চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে ইরান একদিকে জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক বার্তা তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে সামরিক সক্ষমতার প্রতীকী প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করছে। ফলে এটি শুধু একটি গণবিবাহ অনুষ্ঠান নয়, বরং রাষ্ট্রীয় বার্তা বহনকারী এক ব্যতিক্রমী আয়োজন হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নজর কাড়ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park