1. alaminjhalakati@gmail.com : mdalminjkt Jhalakathi : mdalminjkt Jhalakathi
  2. arifkhanjkt74@gmail.com : daynikdesherkotha :
ত্রিশালে ২হাজার পরিবারের ঈদ আনন্দ নেই - দৈনিক দেশের কথা
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
নির্বাচনী প্রচারনার শেষের দিকে রাজাপুরের ইউনিয়ন গুলোতে জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ,চলছে প্রচার ও উঠান বৈঠক ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান। পিরোজপুরে সদর উপজেলায় নৌকা প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ সুনামগঞ্জের যাদুকাটায় নৌকা ডুবে যুবক নিখোঁজ : উদ্ধার ২ খুলনায় ভূমিহীনদের গৃহনির্মাণ কাজ শতভাগ সম্পন্ন, রবিবারে ১,৩৫১ পরিবারের মাঝে হস্তান্তর ঝালকাঠি পৌর নির্বাচনে নারী ভোটাররাই প্রার্থীদের একমাএ ভরসা মানবতার ফেরিওয়ালা সাংবাদিক এনায়েত ফেরদৌস জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীর আলোচনা সভায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল কিশোরগঞ্জে মুজিব পল্লীতে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাচ্ছে ১৭০ গৃহহীনপরিবার বিরামপুরে খড় বোঝাই ভ্যানে মিললো ৩৪ বোতল ফেনসিডিল,আটক-২

ত্রিশালে ২হাজার পরিবারের ঈদ আনন্দ নেই

ইমরান হাসান বুলবুল, ত্রিশাল প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত সোমবার, ১০ মে, ২০২১
  • ৩৪ বার দেখেছেন

“আমরা খুব বেকায়দায় রয়েছি। খেয়ে-না খেয়ে বেঁচে আছি। লজ্জাই না পারি কিছু করতে, না পারি বলতে; খোঁজ নেয়নি সরকার। সরকার যেখানে দিতে বাধ্য হয় সেখানেই দেয়। সরকারও নিজের প্রয়োজন বুজে। আমাদের মতো অসহায় লজ্জাশীল অংশের দুঃখ, কষ্ট না দেখলেও চলে সরকারের। আমরা তো আর লজ্জায় রাস্তা অবরোধ করবো না, গাড়ি ভাঙবো না। তবে পেটের খিদে তো আর লজ্জা মানছে না।”এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের কথা বলছিলেন সাবেক ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী নামের ত্রিশাল উপজেলার এক কেজি স্কুলের শিক্ষক।ত্রিশালে এই রকম প্রায় ২হাজার পরিবার আছে যারা কেজি স্কুলের সাথে সম্পৃক্ত, তাদের ঘরে আজ ঈদের কোন আনন্দ নেই।
উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের হদ্দের ভিটা গ্রামের মৈত্রী বিদ্যানিকেতনের শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম সাদেক বলেন, আমার টাকায় আমার পরিবার চলে। স্কুল বন্ধ থাকায় খুব বিপদে আছি। স্কুল খুলবে আশায় অনেক টাকা ঋণ হয়ে গেছে। এই ঋণের বুজা কিভাবে যে পরিশোধ করবো আল্লাহই জানে। সরকার আমাদের কষ্ট বুজবো ভাবছিলাম। তা তো আর হলো না!
অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার বলেন, আমরা মন, প্রাণ উজাড় করে দিয়ে চেষ্টা করি শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দেয়ার। আমাদের শিক্ষার্থীদের ফলাফলও ভালো। কিন্তু এক বছরের অধিক সময় হলো আমাদের স্কুল গুলো বন্ধ রয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠান কখনো সরকারের দেয়া আর্থিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেনি। এখন একটা মহামারী চলছে। এই মহামারীতে আমরা নিরুপায় হয়েই সরকারের সহযোগিতা চেয়েছিলাম।
সরকার থেকে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার প্রায় অর্ধশত কিন্ডারগার্টেন এখন অস্তিত্ব সংকটে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত হওয়ায় করোনাকালে ভাড়া দিতে না পেরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক কিন্ডারগার্টেন স্কুল।
বিভিন্ন স্কুল ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ স্কুলের মাঠ ও ক্লাস রুমের বেহাল দশা। পরে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের দরজা জানালা দিয়ে বিভিন্ন প্রকার প্রাণির যাতায়াত এবং ক্লাস রুমে তাদের বসবাস। স্কুলের মাঠে কেউ রেখেছে খড় আবার কেউ রেখেছে গরুর গোবর। স্কুল আঙিনা খালি পেয়ে চলে আড্ডা।
তাছারা সকল শিক্ষার্থীদের অবস্থা আরও খারাপ। তারা তাদের স্কুল খোলা না পেয়ে অলস সময় পার করছে। কেউ কেউ আবার বাজে নেশায় জড়িয়ে পড়ছে।
কিন্তু করোনা মহামারির কারণে বর্তমানে চালু করার উপোযোগি ৫০টি কিন্ডারগার্টেন। শিক্ষক/শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থী সংকটেও থাকতে হবে এসব প্রতিষ্ঠানের। পূর্বে যেসব শিক্ষক/শিক্ষিকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন তার অধিকাংশই দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে বিভিন্ন কর্মের সাথে যুক্ত হওয়ায় ফিরতে পারবে না স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে।
ত্রিশাল উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম আলমগীর কবীর বলেন, এরকম হাজারো শিক্ষকের আর্তনাদ হয়তো আমরা শুনতে পাই না। আমাদের উপজেলাতে ১৫০ এর অধিক কেজি স্কুল রয়েছে। এখানে প্রায় ৮ শতাধিক শিক্ষক কর্মচারী রয়েছে। তাদের বেশির ভাগই মানবেতর জীবনযাপন করছে। মানবিক দৃষ্টিতে হলেও সরকারের এদের জন্য কিছু করা দরকার। এই ক্রান্তীকালে সহায়তা পেলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে এই সেক্টরে কাজ করা শিক্ষক-কর্মচারীরা।

ত্রিশাল উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন এর সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল বলেন, এই করোনার সময় স্কুল টিকিয়ে রাখতে বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল এবং নানা আনুষাঙ্গিক খরচ দেওয়াটাই কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। তাছাড়া স্কুল খোলার পর শিক্ষক/শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থী কি পরিমাণ থাকবে তা নিয়েও রয়েছে নানা সংশয়। সব মিলিয়ে আমরা খুবই দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি। এখন সরকার যদি আমাদের প্রতি সদয় দৃষ্টি না দেন এবং প্রয়োজনীয় প্রণোদনার ব্যবস্থা না করেন তাহলে আমাদের তিল তিল করে গড়ে তুলা প্রতিষ্ঠানগুলো পূনরায় চালু করা অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং একটি বিশাল জনগোষ্ঠী শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন হবে।
সামনে পবিত্র ইদুল ফিতর। গতবারের দুই ঈদের মতোই এই ঈদেও কিন্ডারগার্টেন এর সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো ন্যূনতম আনন্দে ঈদ পালন করতে ব্যর্থ হবে। তাই সরকারের সদয় ও কার্যকরী পদক্ষেপই পারে কিন্ডারগার্টেন গুলোকে রক্ষা করতে।

ত্রিশাল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কিন্ডারগার্টেনে কর্মরত শিক্ষক -কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এ বিষয়ে সরকারী ভাবে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে যদি কোনো বরাদ্দ পরবর্তীতে আবার আসে তবে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়ার চেষ্টা করবো।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2021
WEB DEVELOPMENT BY KB-SOFTWARES