1. alaminjhalakati@gmail.com : mdalminjkt Jhalakathi : mdalminjkt Jhalakathi
  2. arifkhanjkt74@gmail.com : daynikdesherkotha :
শ্রমের সমতায় হোক মে দিবসের অঙ্গীকার - দৈনিক দেশের কথা
শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০৫:১০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

শ্রমের সমতায় হোক মে দিবসের অঙ্গীকার

রিদুয়ান ইসলাম,জবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত শনিবার, ১ মে, ২০২১
  • ৯৪ বার দেখেছেন
দেশেরকথা

যাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শ্রমে বৃহত্তরের সৃষ্টি হয় তাদেরকে আমরা শ্রমিক বলে থাকি। প্রতিটি সভ্যতার অগ্রযাত্রায় আছে শ্রমিক শ্রেণির ঘাম ঝরানোর ইতিহাস। কিন্তু কোন যুগেই শ্রমিকরা তাদের যথাযোগ্য মর্যাদা পায়নি, এমনকি পাইনি তাদের যথাযথ অধিকারও। নিষ্পেষিত আর অধিকার বঞ্চিত হয়ে কাজ করেছে পুঁজিবাদী মালিকদের অধীনে কিন্তু শ্রমিকরা কখনো তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম থেকে থেমে থাকেনি। তাদের এই সংগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করে পহেলা মে বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস।

শিল্প বিপ্লবের পূর্বে বেশিরভাগ শ্রমিকদের কাজ ছিল গৃহের অভ্যন্তরে। তখন শ্রমিকদের কাজকে বলা হত “হোম বেজড এক্টিভিটিস”। কিন্তু শিল্প বিপ্লবের পরে অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। বিভিন্ন যন্ত্রাংশের উদ্ভবের ফলে পুঁজিবাদীরা একটি নির্দিষ্ট স্থানে ফ্যাক্টরি স্থাপন করতে থাকে এবং শ্রমিক নিয়োগ করে।শ্রমিকরাও একটু বেশি মজুরি আর নিয়মিত কাজের সুযোগ পাওয়াতে অনায়াসে এসব ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে শুরু করে। সেই সময়টাতে যেহেতু মালিকই সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ করতো তাই একজন শ্রমিক কত ঘন্টা কাজ করবে তা মালিক পক্ষই ঠিক করে দিতো। তখন ফ্যাক্টরিতে কাজের সূচনা সময় তাই মালিক পক্ষের সব আদেশ- নিষেধ শুনতে হতো শ্রমিকদের। এমনকি দিনে দশ,বারো বা তার অধিক সময়ও কাজ করতো শ্রমিকরা। ধীরে ধীরে শ্রমিক শ্রেণীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। মালিকপক্ষের শোষণ তারা বুঝতে সক্ষম হয়। তাই বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ‘প্রমাণ কর্মঘন্টা’ হিসেবে ৮ ঘণ্টা কাজকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়। মে মাসের প্রথম তারিখে যে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালিত হয় সেটির মুলকথা মূলত ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন হিসেবেই শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহর বরাবরই শিল্পায়নের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে শুধু দেশীয় শ্রমিক নয় বরং বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করতে আসতো। এভাবে শিকাগো শহর পরিচিত হয় জমজমাট শিল্পকেন্দ্র হিসেবে। কিন্তু শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পরিধি বৃদ্ধি পেলেও শ্রমিকদের কোন দাবি-দাওয়া মালিকপক্ষ গ্রাহ্য করত না। যার ফলে শ্রমিকশ্রেণীর মাঝে দেখা দিয়েছিল তীব্র অসন্তোষ। এই অসন্তোষ থেকে ক্রমে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন সঙ্গবদ্ধ আন্দোলন। আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের লেবার ইউনিয়নের কার্যক্রম শুরু হয় এবং সবার পরামর্শে ১৮৮৬ সালের মে মাসের এক তারিখে ধর্মঘট ডাকা হয়। শ্রমিকদের সামনে একটাই লক্ষ্য ছিল, যেকোন মূল্যে ৮ ঘন্টা কাজ নিশ্চিত করা। ১৮৮৬ সালের মে মাসের এক তারিখে ধর্মঘট শুরু হয়। পহেলা থেকে তেসরা মে তারিখ পর্যন্ত আন্দোলন ছিল অসহিংস। কিন্তু ৩ তারিখে শিকাগোতে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় দু’জন শ্রমিক। এ ঘটনা ছিল শ্রমিক আন্দোলনের আগুনে ঘি ঢালার মতো। পরবর্তী দিন আন্দোলনের ভয়াবহতা সৃষ্টি হয়,যখন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে। পাল্টা পুলিশও গুলি চালাতে শুরু করে। যার ইতি আসে সাত জন পুলিশ ও চার জন শ্রমিকের মৃত্যুর মাধ্যমে। মে মাসে শিকাগোতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে – ” হে মার্কেট ম্যাসাকার” বলা হয়।

এ সংগ্রাম ও প্রাণদানের পরেও শ্রমিকরা পায়নি তাদের আট ঘণ্টা কাজের সুবিধা। বরং বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন সংগ্রাম চলতে থাকে। আবশেষে ১৯১৭ সালে রাশিয়ার জার দ্বিতীয় নিকোলাসের পতনের চার দিন পর আমেরিকা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ‘ দিনে আট ঘন্টা’ কাজের স্বীকৃতি দেয়।
এভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে শ্রমিকদের আদায় করতে হয় তাদের অধিকার। অথচ নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থের বিনিময় তারা দেশের ভাগ্য বদলে নিরলস কাজ করে যায়। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, দেশের অগ্রগতির জন্য তাদের চেষ্টা অথচ বদলে পায় অল্প কিছু পারিশ্রমিক। দেশের সব প্রান্তেই শ্রমিকরা এভাবে পরিশ্রম করে চলেছে। আমরা আমাদের দেশের দিকেও যদি দেখি তাহলে সহজেই বুজতে পারবো। মুটে, মজুর কুলি, কুষক, দোকানি সকলের দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে দেশে অগ্রযাত্রা একটু – একটু করে হলেও বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু শ্রমিকদের পরিশ্রমের যথাযথ মর্যাদা তারা পেয়েছে কি? জীবন দানের মাধ্যমে শ্রমিকদের আন্দোলন হলেও তাদের যথাযথ মর্যাদা এখনও সবর্ত্র আসেনি। এখনো চলে শ্রমিকের উপর অমানবিক শ্রমের চাপ।
তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে চলে গুলি। দেশের ভাগ্য বদল করা এসব শ্রমিকদের এখনো সইতে হয় অকথ্য নির্যাতন। তাহলে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের সফলতা কোথায়! এছাড়াও নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের মাঝে ব্যবধান গুলো সর্বত্র প্রকট । এখনও নারী শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত হয়নি। অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের কাজের পরিমাণ সমান হলেও নারীদের মজুরি পুরুষের অর্ধেক। এছাড়া কাজের জায়গা গুলো নিরাপদ না হওয়ায় নারীরা প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের স্বীকার হয়।

শ্রমিকরা অধিকার আদায়ের জন্য বিভিন্ন সময় নিজের রক্ত এমনকি জীবন বিলিয়ে দিলেও, কার্যত এখনও তারা পায়নি তাদের ন্যায্য অধিকার। তাবে একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য শ্রমিক শ্রেণির যথাযথ মূল্যায়ন দরকার। শ্রমিকদের এ মুল্যায়ন প্রতিটি ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু হওয়া দরকার। শ্রমিকদের সে যে পর্যায়েরই হোক যথাযথ সম্মান এবং মর্যাদার চোখে দেখা সকলের কাম্য। পাশাপাশি শ্রমিক নির্যাতন বন্ধের জন্য এবং নারী ও পুরুষের সকল ক্ষেত্রে সমতা বিধান করার জন্য সরকারি সিদ্ধান্ত এবং তার বাস্তবায়ন দরকার। এভাবে যাদের হাতে শহর-নগর সৃষ্টি হয়, তাদের প্রতি যথাযথ সম্মানের মাধ্যমে সৃষ্টি হবে সমতার সমাজ।

লেখক: মু’তাসিম বিল্লাহ মাসুম
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2021
WEB DEVELOPMENT BY KB-SOFTWARES