1. alaminjhalakati@gmail.com : mdalminjkt Jhalakathi : mdalminjkt Jhalakathi
  2. arifkhanjkt74@gmail.com : daynikdesherkotha :
মাছ দিয়ে জৈবিক উপায়ে মশা নিধনে সাফল্য - দৈনিক দেশের কথা
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন

মাছ দিয়ে জৈবিক উপায়ে মশা নিধনে সাফল্য

জাািহদ হাসান
  • প্রকাশিত রবিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২১
  • ২১ বার দেখেছেন

বাকৃবি প্রতিনিধি: মশা নেই এমন জায়গা এখন খুঁজে পাওয়াই কঠিন। মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের মধ্যে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া উল্লেখযোগ্য। কিন্ত দেশে এ মশা থেকে রেহাই পেতে কেবল ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার করা হয় যা পরিবেশ ও মানুষের শরীরের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এ থেকে রক্ষা পেতে জৈবিক পদ্ধতিতে (মশাভুক্ত মাছ) মশা নিধনে সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ। রবিবার সাংবাদিক সম্মলেনে তিনি তার গবেষণার এসব সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। কেবল দেশি প্রজাতির মাছ দিয়েই এটি সম্ভব বলে জানান ওই গবেষক। সংবাদ সম্মলেনের সভাপতিত্ব করেন মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল মনসুর।

ড. হারুনুর রশীদ জানান, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে মশা দমন করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ ধরনের রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই মশার বিস্তার রোধে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিতে হবে। সমন্বিত ব্যবস্থাপনাগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী কিন্তু টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা মূলত ‘জৈবিক বালাইদমন পদ্ধতি’। রাসায়নিক বালাইদমন পদ্ধতিগুলো ‘দ্রুত কার্যকর’ মনে হলেও এগুলোর প্রভাব স্বল্পমেয়াদের। তাই শুধুমাত্র রাসায়নিক বালাইদমন করে মশা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ভুল। মশা নিয়ন্ত্রণে সফল দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখতে পাই যে, সারা বছর ধরেই বেশ ক’টি জৈবিক ও রাসায়নিক দমন পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমেই মশা ও মশাবাহী রোগের দমনে সাফল্য এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এ ধরণের কোন সমন্বিত কাজ ছিল না।

গবেষক জানান, ঢাকা-চট্টগ্রামে বেশ কয়েক বছর আগে এই মাছ ও গাপ্পি ছাড়া হয়েছিল বলে শুনেছি। আমি চট্টগ্রামের ড্রেনে গাপ্পি তেমন দেখিনি, কিন্তু এই ‘মসকুইটো ফিশ’ প্রচুর পরিমাণে দেখেছি। এ মাছগুলো ড্রেনের নোংরা পানিতে শুধু বছরের পর বছর টিকে আছে তাই নয়, বংশ বিস্তারও করছে। সেই সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ মশার লার্ভা খেয়ে আমাদের সাহায্য করছে।

পরবর্তীতে ‘মসকুইটো ফিশ’ ছাড়াও আরো কিছু দেশি-বিদেশি মাছ ল্যাবরেটরিতে আমি পরীক্ষা করে দেখেছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল মশার লার্ভা ভক্ষণে তাদের দক্ষতার তুলনা করা। গবেষণায় আমরা দেখেছি যে বিদেশি ‘মসকুইটো ফিশ’ বা গাপ্পির তুলনায় মশক লার্ভা ভক্ষণের ক্ষেত্রে আমাদের দেশি জাতের খলিসা মাছের দক্ষতা প্রায় দ্বিগুণ। বিদেশি মাছের তুলনায় দাড়কিনা মাছের দক্ষতাও ভালো লার্ভা দমনের ক্ষেত্রে, কিন্তু ড্রেনের/ নর্দমার পানিতে এই মাছ বেশিদিন টিকে না। পক্ষান্তরে খলিসা শুধু মশার লার্ভা ভক্ষণেই ভালো নয়, এটির ড্রেনের পানিতে অভিযোজন ও টিকে থাকার হারও ভালো। এসব মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও পোনা উৎপাদন খুবই সহজ। সিটি কর্পোরেশনগুলো এসব মাছ শহরের বদ্ধ জলাগুলোতে নিয়মিতভাবে প্রতিবছর ছেড়ে দিতে পারে। এতে করে এসব জলায় মশা ডিম ছাড়লে উৎপন্ন লার্ভা খেয়ে দেশি মাছগুলো মশা দমনে অনেক অবদান রাখবে। দেশের স্বার্থে এক্ষেত্রে এ পোনা প্রযুক্তি সরবরাহ, পোনা উৎপাদনের প্রশিক্ষণ সহায়তা থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের বিশেষজ্ঞ দল বিনা পারিশ্রমিকে সহায়তা প্রদান করবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2021
WEB DEVELOPMENT BY KB-SOFTWARES