1. alaminjhalakati@gmail.com : mdalminjkt Jhalakathi : mdalminjkt Jhalakathi
  2. arifkhanjkt74@gmail.com : daynikdesherkotha :
অটিজম প্রতিরোধে কুসংস্কার নয়, সচেতনতা জরুরি - দৈনিক দেশের কথা
মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ১১:১৬ অপরাহ্ন

অটিজম প্রতিরোধে কুসংস্কার নয়, সচেতনতা জরুরি

লেখক: মারিয়া জান্নাত মিষ্টি শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
  • প্রকাশিত শুক্রবার, ২ এপ্রিল, ২০২১
  • ২১৪ বার দেখেছেন


অটিজম এক ধরনের স্নায়ুবিক বিকাশজনিত সমস্যা। সাধারণত শিশুর জন্মের দেড় থেকে তিন বছরের মধ্যে অটিজমের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুরা সমবয়সী কিংবা অন্যদের সাথে সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করতে পারে না, যোগাযোগে সমস্যা হয় এবং একই কাজ বার বার করতে থাকে। এছাড়া আরও অনেক বৈশিষ্ট্যের কারনে অটিস্টিক শিশু স্বাভাবিক শিশুদের মতো জীবনযাপন করতে পারে না।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ও অটিজমে আক্রান্তদের জীবনযাত্রার মান  উন্নয়ণের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০০৭সালের ২ এপ্রিলকে “বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস” হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরবর্তীতে প্রতিবছর ২ এপ্রিল এ দিবসটি পালন করা হয়।অটিজম কেন হয় তার কোন সুনির্দিষ্ট কারন খুঁজে পাওয়া যায় নি।

তবে গবেষকরা মনে করেন, জেনেটিক, নন-জেনেটিক ও পরিবেশগত প্রভাব সমন্বিতভাবে অটিজমের জন্য দায়ী। আরও কিছু কারন যেমনঃ (ক) প্রথম সন্তান অটিজম হলে দ্বিতীয় সন্তান অটিজম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, (খ) সময়ের আগেই শিশুর জন্ম হলে, (গ) বিভিন্ন ঔষধের সাইডইফেক্ট, ভিটামিন ‘ডি’-এর অভাব, রুবেলা ইনফেকশন হলে গর্ভস্থ শিশুর অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এসব বিষয়ের সচেতনতাই অটিজমের ঝুঁকি বহুলাংশে কমাতে পারে। 


আমাদের সমাজে দেখা যায়, অজ্ঞানতা বা অন্য কোন কারনে অটিস্টিক শিশু জন্মগ্রহণ করলে  পিতা-মাতার বিড়ম্বনার যেন অন্তি নাই।তখন সেই শিশুটির সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না করে চলে কবিরাজি, ঝাড়ফুঁক ইত্যাদি। আর সবকিছুর দায়ভার দেয়া হয় মাকে। স্ত্রীকে অপয়া, অলক্ষী বলে অনেকে আবার বিয়েও করে। লোকলজ্জার ভয়ে অটিস্টিক শিশুকে ঘরে বন্দী করে রাখে।

এতে অটিজমে আক্রান্ত শিশুটি আরও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাই আমাদের সকলের উচিত কুসংস্কারে ‘গা’ না ভাসিয়ে অটিজমের লক্ষণ দেখামাত্র শিশুর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ও বিশেষজ্ঞের  পরামর্শ নেয়া।আমাদের দেশে অটিস্টিক শিশুর উন্নয়ণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা ও তাঁর সুযোগ্য কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। বিদেশি বিভিন্ন সংস্থায়ও প্রণোদনা দিচ্ছে অটিস্টিক শিশুদের জন্য। তাই অটিজমে আক্রান্তদের অবহেলা না করে  তাদের প্রতিভার দিকে নজর দেয়া দরকার।অটিস্টিক শিশুদের জন্য বিশেষায়িত স্কুল আছে। সেখানে প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা পেলে অটিস্টিক শিশুরাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য পেতে পারে।
অটিজমে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। বর্তমানে করোনা মহামারীতে অটিস্টিক শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য হুমকির সম্মূখীন। তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে বিনোদনমূলক কাজের সাথে যুক্ত করা ও তাদেরকে উপহাস, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ না করে বিভিন্নভাবে সাহায্য  সহযোগিতা করা উচিত।

লেখক: মারিয়া জান্নাত মিষ্টিশিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

আমাদের লেখা দিতে যোগাযোগ করুন

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2021
WEB DEVELOPMENT BY KB-SOFTWARES