1. alaminjhalakati@gmail.com : mdalminjkt Jhalakathi : mdalminjkt Jhalakathi
  2. arifkhanjkt74@gmail.com : daynikdesherkotha :
স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীতে তাদের ভাবনা - দৈনিক দেশের কথা
মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৫:১২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কালিয়াকৈর মেম্বার পদ প্রার্থী জয়নালের বাড়িতে উপজেলা আওয়ামিলীগের মিলন মেলা বিশিষ্ট শিল্পপতি দানবীর ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া আর নেই গ্রেফতার হওয়া নেতাদের মুক্তি না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি আমাকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার জন্য: নুর নামাজ ও তারাবিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ রাজাপুরে পানিতে তরমুজ ক্ষেত তলিয়ে মাঠেই নষ্ট হচ্ছে আধাপাকা ফল পবিত্র কোরআনের ২৬টি আয়াত বাতিল চেয়ে করা আবেদন খারিজ:একই সাথে জরিমানা আহমদ শফীকে হত্যা প্ররোচনা মামলায় বাবুনগরীসহ অভিযুক্ত ৪৩ কাউখালীতে মানবতার ফেরিওয়ালা ছাত্রলীগ নেতা জিতুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ এবার লকডাউনে চলতে লাকবে মুভমেন্ট পাস

স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীতে তাদের ভাবনা

আকরাম খান ইমন, ববি প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত শনিবার, ২৭ মার্চ, ২০২১
  • ২৮৮ বার দেখেছেন

মার্চ আমাদের স্বাধীনতার মাস।স্বাধীনতার ৫০ বছরে পদাপর্ণ করলো প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ। অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে অর্ধশত বছর আগে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। আজ স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে গোটা জাতি।দিবসটির প্রাসঙ্গিকতায় যুক্ত হয়েছে নানা মাত্রা ও নানা তাৎপর্য। তবে এই স্বাধীনতা অর্জনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছিল দেশের তরুণ সমাজ।স্বাধীনতার এই সূবর্ণজয়ন্তীতে এসে কি ভাবছে দেশের তরুণ সমাজ?বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কয়েকজন তরুণ শিক্ষার্থীর ভাবনা ও মতামত নিয়ে লিখেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের  শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক আকরাম খান ইমন-

আমিনুল ইসলাম আশিক,ব্যাবস্থাপনা বিভাগ

একটা দেশ যখন অর্ধশত বছর পার হয় তখন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ধনী-গরিব, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল সাধারণ জনগণের জন্য সমান মৌলিক সুযোগ সুবিধাসহ, কিছু প্রয়োজনীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা প্রায় প্রত্যেকটি নাগরিকেরই কাম্য। কিন্তু সেই সাধারণ নাগরিক সুবিধা আমরা কতটা পাচ্ছি?
দেশের সূবর্ন জয়ন্তী যখন আমরা উদযাপন করছি তখন প্রায় বেশিরভাগ জেলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে, অথচ প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় আজ প্রাণশূণ্য। দেশের ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও ইন্টারনেট সেবার মান ও দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছুতে পারেনি প্রত্যন্ত অঞ্চলে। যার দরূন দেশের দরিদ্র শিক্ষার্থী জনগোষ্ঠী প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষাগ্রহন থেকে হয়েছে বঞ্চিত। এদেশে বহু দেশি বিদেশি কোম্পানী দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখলেও এখনও মেধাপাচার রোধ করা যায়নি, নিশ্চিত করা যায়নি চাকরির নিরাপত্তা। এদেশ আজ অর্থনীতিতে নিয়ে এসেছে ঈর্ষান্বিত সাফল্য, অথচ জাতিগত কলঙ্ক থেকে আমরা মুক্ত হতে পেরেছি কিনা তার উত্তর নেই। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও আজও প্রকাশ করা যায়নি ভাষা শহীদ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ সঠিক তালিকা, যে কারনে বহু ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা সুবিধাভোগী হয়েছে। আজও তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সর্বাত্মকভাবে পৌঁছানো যায়নি, জাতির পিতার সকল হত্যাকারীদের বিচার আজও হয়নি।
এত শত পাওয়া না পাওয়ার মধ্যেও আশা নিয়ে আছি একদিন হয়ত জাতি হিসেবে সারা বিশ্বের দরবার সহ আমরা নিজেদের বিবেকের কাছেও মাথা উঁচু করে দাড়াবো। জয় আসবেই।

আরাবী খান, ভূতত্ত্ব ও খণিবিদ্যা

স্বাধীনতার পর ‘তলাবিহীন ঝুড়ির’ দেশ আখ্যা দিয়ে যারা অপমান-অপদস্থ করেছিল, সেই তাদের কণ্ঠেই এখন বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা। দারিদ্র্য আর দুর্যোগের বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের পথে। অনেকের জন্য রোলমডেল।অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ আর্থসামাজিক প্রতিটি সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ।বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে যে সাফল্য, এর পেছনেও বঙ্গবন্ধুর এসব পদক্ষেপের বড় ভূমিকা রয়েছে। এরই আলোকে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ মানসম্মত শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।

দেশে ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৪৭ শতাংশ, এখন তা মাত্র ৬.২ শতাংশ।প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি উভয় সূচকের স্থিতিশীলতার বিচারেও দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ৩৮৩ মিলিয়ন ডলার।বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি ৮১ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১.২ বিলিয়ন ডলার।মহান স্বাধীনতা দিবস ও স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীতে সবাইকে শুভেচ্ছা।

শাওনুর রহমান শাওন,মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ

স্বাধীনতার ৫০ বছর।এই দেশটা নিয়ে এত অভিযোগ, এত রাগ, এত অভিমান।তবুও, সে যে আমার জন্মভূমি।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ির’ দেশ আখ্যা দেয়া হয়েছিল। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে দারিদ্র্য আর দুর্যোগের বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের পথে। এই প্রাপ্তি নিয়েই আমরা আজ পালন করছি স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। কিন্তু স্বাধীনতার এই সুবর্ণজয়ন্তীতে এসেও মানুষ আজ বিভিন্ন  ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার যা আমাদেরকে ব্যাথিত করে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমাদের দেশ অনেকটা এগিয়েছে অর্থনৈতিক ভাবে কিন্তু আমরা আজও নিশ্চিত করতে পারিনি আমাদের দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। তাই আমি মনে করি যে আশা আকাঙ্খা নিয়ে আমাদের এই স্বাধীনতা অর্জন সেই স্বাধীনতাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে সকলকে একযোগে দেশ এবং জাতির উন্নয়নে নিজেকে সমুন্নত রাখা।

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ,সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে পেছিলাম স্বাধীনতা নামের সেই সবুজ মুক্ত পাখি।। স্বাধীনতার  ৫০ বছরে নোংরা আর অপরাজনীতি সেই সবুজ পাখির বুকে করেছে হাজারো ক্ষত, যেখান দিয়ে অবিরাম  বের হচ্ছে রক্ত। সবুজ পাখিটা আজ মৃত প্রায়।
তাই আসুন দল প্রেমে  নয়,  দেশ প্রেমে উদ্ভুদ্ধ হই। গড়ে তুলি সোনার বাংলা, যেখানে থাকবেনা কোন নোংরা রাজনীতি থাকবে  মুক্ত রাজনীতি,থাকবে বাক স্বাধীনতা। তাই আজ স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীতে বলি আমার দেশ,  আমার স্বত্বা আমিই করবো রক্ষা।

সাবরিনা আক্তার সাদিয়া,পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ

স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমাদের প্রাপ্তির খাতায় অনেক কিছু যোগ হয়েছে যা আমাদের দেশ কে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়েছে যেমন :পদ্না সেতু,রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ইত্যাদি।
কিন্তু একই ভাবে আমরা লক্ষ্য করি আমাদের দেশে দূর্নীতি,লুটপাট, সাম্প্রদায়িকতার আস্ফলান হয়েছে যা আমরা প্রত্যাশা করি না স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে।
আমরা চেয়েছিলাম ৫০ বছরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খা পূরণ হবে সম্পূর্ণ ভাবে কিন্তু সেটা হয় নি।যদি আমাদের একটি সুন্দর শিক্ষা ব্যাবস্থা থাকতো আর তা যদি হতো বিজ্ঞান ভিত্তিক একমুখি শিক্ষা ব্যাবস্থা তাহলে আমাদের অনেক সংকট নিরসন হতো।

সিদরাতুল মুনতাহা জ্যোতি,পরিসংখ্যান বিভাগ

গৌরবের মাস স্বাধীনতার মাস এই মার্চ।দীর্ঘ ৫০ টি বছর পেরিয়ে আমরা উপনীত হয়েছি স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীতে।কিন্তু আমি মনে করি স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের মতো এখনো আমরা ততটা যোগ্যতা অর্জন করতে পারিনি!কারণ আমাদের দেশের প্রতিটা নাগরিকের মৌলিক চাহিদাগুলো, মুক্তচিন্তা,বাকস্বাধীনতা,নারী স্বাধীনতা, নারী নির্যাতনমুক্ত দেশ এখনো নিশ্চিত হয়নি। পত্রিকা, টিভি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সব কিছু জুড়েই এখন একটি শব্দ তা হলো ‘ধর্ষণ’।নারীর চরিত্র কুলখানি করার পর টার্গেট করা হয় নারীর প্রতিবাদের ভাষাকে।এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে কবে নারী তার ন্যায্য অধিকার পাবে?দেশের প্রতিটি মানুষ তার অধিকার শুধু বুলিতে নয়,বাস্তবরূপে পাবে।স্বাধীন দেশে স্বাধীন মানুষরূপে বেঁচে থাকাটাই আমাদের কাম্য।পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত  হোক স্বাধীন বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2021
WEB DEVELOPMENT BY KB-SOFTWARES