1. alaminjhalakati@gmail.com : mdalminjkt Jhalakathi : mdalminjkt Jhalakathi
  2. arifkhanjkt74@gmail.com : daynikdesherkotha :
আগামী ২৫ বছর ভারত ও বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ:নরেন্দ্র মোদি - দৈনিক দেশের কথা
মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৫:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কালিয়াকৈর মেম্বার পদ প্রার্থী জয়নালের বাড়িতে উপজেলা আওয়ামিলীগের মিলন মেলা বিশিষ্ট শিল্পপতি দানবীর ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া আর নেই গ্রেফতার হওয়া নেতাদের মুক্তি না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি আমাকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার জন্য: নুর নামাজ ও তারাবিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ রাজাপুরে পানিতে তরমুজ ক্ষেত তলিয়ে মাঠেই নষ্ট হচ্ছে আধাপাকা ফল পবিত্র কোরআনের ২৬টি আয়াত বাতিল চেয়ে করা আবেদন খারিজ:একই সাথে জরিমানা আহমদ শফীকে হত্যা প্ররোচনা মামলায় বাবুনগরীসহ অভিযুক্ত ৪৩ কাউখালীতে মানবতার ফেরিওয়ালা ছাত্রলীগ নেতা জিতুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ এবার লকডাউনে চলতে লাকবে মুভমেন্ট পাস

আগামী ২৫ বছর ভারত ও বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ:নরেন্দ্র মোদি

ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত শনিবার, ২৭ মার্চ, ২০২১
  • ২৮ বার দেখেছেন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, এটি একটি আনন্দময় ও কাকতালীয় ঘটনা যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর ও ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর একসঙ্গে পড়েছে। উভয় দেশের জন্য আগামী ২৫ বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ঐতিহ্যের অংশীদার। আমরা উন্নয়নেরও অংশীদার। আমরা লক্ষ্য ভাগাভাগি করি। চ্যালেঞ্জও ভাগাভাগি করি। মনে রাখতে হবে বাণিজ্য ও শিল্পে আমাদের জন্য একই ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে। তেমনি সন্ত্রাসবাদের মতো সমান বিপদও রয়েছে। এ জাতীয় অমানবিক ঘটনাবলির পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবে রূপদানকারী শক্তিগুলো এখনো সক্রিয়। আমাদের অবশ্যই তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে এবং মোকাবেলা করার জন্য সংগঠিতও হতে হবে। আমাদের উভয় দেশেই গণতন্ত্রের শক্তি রয়েছে। এগিয়ে যাওয়ার সুস্পষ্ট দূরদর্শিতা রয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ অগ্রযাত্রা এ পুরো অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য সমান জরুরি।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘মুজিব চিরন্তন’ শিরোনামে ১০ দিনব্যাপী এ আয়োজনের গতকালই ছিল শেষ দিন। পুরো উৎসবে যোগদানকারী বিশ্বনেতাদের মধ্যে পঞ্চম রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। গতকাল অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি।

গতকালের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল—‘স্বাধীনতার ৫০ বছর ও অগ্রগতির সুবর্ণরেখা’। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানাও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিকাল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে উপস্থিত হন নরেন্দ্র মোদি। উদযাপন অনুষ্ঠানে মুজিব কোট পরে উপস্থিত হন তিনি। অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় তার বোন শেখ রেহানাও সঙ্গে ছিলেন। অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভারতের পক্ষ থেকে দেয়া ‘গান্ধী শান্তি পুরস্কার’ হস্তান্তর করেন নরেন্দ্র মোদি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা তার হাত থেকে এ পুরস্কার গ্রহণ করেন। এ সময় শেখ রেহানা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হাতে ‘মুজিব চিরন্তন’ স্মারক তুলে দেন।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রমাণ করেছি, পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা থাকলে সব সমস্যা সমাধান করা যায়। আমাদের স্থলসীমান্ত চুক্তি এর সাক্ষী। করোনার এ দুঃসময়েও দুটি দেশের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রয়েছে। আমরা সার্ক কভিড তহবিল গঠনে সহযোগিতা করেছি। নিজেদের মানবসম্পদের প্রশিক্ষণে সহায়তা করেছি।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বে তার সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। যারা বাংলাদেশ গঠনে আপত্তি করেছিলেন; যারা এখানকার মানুষকে নিচু চোখে দেখতেন, যারা বাংলাদেশের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান ছিলেন, বাংলাদেশ তাদের ভুল প্রমাণ করেছে।

এ সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয়দের অংশগ্রহণের ইতিহাস তুলে ধরে নরেন্দ্র মোদি বলেন, (আমাদের) এমন সম্পর্ক তৈরি করতে হবে, যা কোনোভাবেই ভাঙবে না। কোনো কূটনীতির চালের শিকার হবে না।

বক্তব্যে নরেন্দ্র মোদি জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পক্ষে সত্যাগ্রহ আন্দোলন করে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। তার গতকালের বক্তব্যটি ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় সাজানো। এ সময় বাংলায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ থেকেও কিছু অংশের উদ্ধৃতি দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তরুণদের জন্য সুবর্ণজয়ন্তী বৃত্তির ঘোষণা দেন। বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের ভারতে বিনিয়োগেরও আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মত ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্বও উঠে আসে।জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠান শেষে গতকাল সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথভাবে ‘বঙ্গবন্ধু-বাপু জাদুঘর’ উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজেও যোগ দেন তিনি।

এর আগে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় পৌঁছান নরেন্দ্র মোদি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দরে নরেন্দ্র মোদিকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়।

বিশ্বব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর নরেন্দ্র মোদির এটিই প্রথম বিদেশ সফর। বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় দুই প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী একে অন্যকে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতার পর নরেন্দ্র মোদি পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান। জাতীয় স্মৃতিসৌধে তাকে স্বাগত জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী, নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, জেলা পুলিশ সুপারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ও নীরবতা পালন করেন। এ সময় তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন। নরেন্দ্র মোদি সেখানে রক্ষিত পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও এর আশপাশের এলাকায় নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তিনি ঢাকার উদ্দেশে স্মৃতিসৌধ এলাকা ত্যাগ করেন। এরপর তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে যান।

এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (এরশাদ) গতকাল দুপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছে। হোটেল সোনারগাঁওয়ের লবিতে ধারাবাহিকভাবে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে জিএম কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি দল তার সঙ্গে বৈঠক করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনও গতকাল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন আজ সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ পরিদর্শন করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় ওড়াকান্দি মন্দির পরিদর্শন করবেন। পরে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুরের যশোরেশ্বরী দেবী মন্দিরও পরিদর্শন করবেন তিনি।

বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে ভার্চুয়ালি বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধনও করবেন। পরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। আজ রাতেই তিনি নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2021
WEB DEVELOPMENT BY KB-SOFTWARES