1. alaminjhalakati@gmail.com : mdalminjkt Jhalakathi : mdalminjkt Jhalakathi
  2. arifkhanjkt74@gmail.com : daynikdesherkotha :
পবিত্র শবে বরাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য এবং আমাদের করণীয়। - দৈনিক দেশের কথা
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন

পবিত্র শবে বরাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য এবং আমাদের করণীয়।

ডাঃমাওঃ মুহাম্মদ আমির উদ্দিন কাশেম
  • প্রকাশিত বৃহস্পতিবার, ২৫ মার্চ, ২০২১
  • ৬৬ বার দেখেছেন

শা’বান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রজনী’ (মধ্য শা’বান) শবে বরাত” নামে পরিচিত। ফারসি ভাষায়  ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ শব্দের অর্থ সৌভাগ্য। বাংলায় ‘বরাত’ শব্দটি ভাগ্য বা সৌভাগ্য অর্থে ব্যবহৃত হলেও আরবিতে এ শব্দটির অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন। আরবিতে “বারাআত” শব্দটির অর্থবিমুক্তি, সম্পর্কচ্ছিন্নতা, মুক্ত হওয়া, নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া অর্থাৎ  লাইলাতুল বরাত তথা সৌভাগ্যের রজনী।  এটা হিজরি শা’বান মাসের ১৪ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী রাত, উপমহাদেশের মুসলিমদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাত। উপমহাদেশে এই রাতকে শবে বরাত বলা হয়। এই রজনীকে বিভিন্ন নামে নামকরণ করা হয়েছে। তাফসীরে ছাভী, ৪র্থ খন্ডের ৪০নং পৃষ্ঠায় এই রজনীর চারটি নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যেমনঃ ১। লাইলাতুম মুবারাকাহ- বরকতময় রজনী। ২। লাইলাতুল বারাআত- মুক্তি বা নাজাতের রাত্রি। ৩। লাইলাতুর রহমাহ- রহমতের রাত্রি। ৪। লাইলাতুছ ছাক-সনদপ্রাপ্তির রাত্রি ইত্যাদি। 
 ইসলামী বিশ্বাস মতে, এই রাতে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’লা তার বান্দাদেরকে বিশেষভাবে ক্ষমা করেন। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের অনেক মুসলমান নফল ইবাদাতের মাধ্যমে শবে বরাত পালন করেন। অনেকে এই রাতে তাঁদের মৃত পূর্বপুরুষদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। 
কুরআনে এই রজনীকে ‘লাইলাতুম মুবারকা’ বলা হয়েছে, হাদিসে ‘লাইলাতুন নিসফী মিন শা’বান’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 
মহাগ্রন্থ আল কোরআনের সুরা দুখান’র ১-৪নং আয়াতে বলেন (স্পষ্ট কিতাবের শপথ! নিশ্চয়ই আমি তা বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে বন্টন করে দেওয়া হয় প্রত্যেক হিকমতের কাজ। 
মিশকাত শরীফে এসেছে হযরত আবূ মূসা আশয়ারী (রাঃ) রাসূলে আরাবি (সাঃ) হতে বর্ণনা করেন। রাসূলে পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ ফরমান- মধ্য শাবানের রাত্রিতে আল্লাহ পাক রহমতের তাজাল্লী ফরমান এবং তার সমস্ত বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু মুশরিক বা শত্রুতাপোষণকারী ব্যক্তিকে ক্ষমা করেন না। তাছাড়াও মহানবী (সাঃ) শবেবরাত অর্থাৎ ১৫ শাবানের দিনে রোজা রাখা এবং রাতে ইবাদত করার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছেন। মিশকাত শরীফে হযরত আলী (রা.) হতে বর্ণিত, হুজুর (সা.) ইরশাদ করেন : শাবানের ১৫তম রজনী উপনীত হলে তোমরা সে রাতে অধিক হারে আল্লাহর ইবাদত করো। অতঃপর দিনের বেলা রোজা পালন করো। সেদিন আল্লাহ্তায়ালা সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে প্রথম আকাশে অবতীর্ণ হন এবং আহ্বান করতে থাকেন- আছে কি কেউ ক্ষমা প্রার্থনাকারী, আমি তাকে ক্ষমা করবো; আছে কি কোনো রিজিক অন্বেষণকারী, আমি তাকে রিজিক দান করবো; আছে কি কেউ বিপদগ্রস্ত, আমি তাকে বিপদমুক্ত করবো। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আহ্বান করতে থাকেন।
এই রজনী সম্পর্কে ইমাম জালাল উদ্দীন তার তাফসির গ্রন্থ তাফসীরে জালালাইন শরীফের ৪১০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন -নিশ্চয়ই আমি তা বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি। আর বরকতময় রাত হল লাইলাতুল ক্বদর (ক্বদরের রাত) অথবা লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান (শাবানের মধ্য রাত তথা শবে বরাত)। কেননা এই রাতে উম্মুল কিতাব (কোরআন শরীফ) ৭ম আসমান থেকে দুনিয়ার আসমানে (১ম আসমান) নাযিল হয়েছে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী।
তাফসীরে তাবারী শরীফ, তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীরে বাগভী শরীফ, তাফসীরে ইবনু আবি হাতেম, তাফসীরে রুহুল মায়ানী, তাফসীরে বাহরুল মুহীত, তাফসীরে ফাতহুল কাদীর, তাফসীরে যাদুল মাছির, তাফসীরে নাসাফী,  তাফসীরে নিসাপুরী,  তাফসীরে কাশশাফ,  তাফসীরে নুকুত ওয়াল উয়ূন, তাফসীরে দুররে মানসূর,  তাফসীরে খাজেনসহ শীর্ষ তাফসির গ্রন্থ ও হাদিসে এই রাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা বিদ্যমান রয়েছে। এই রজনীতে আমাদের করণীয় হচ্ছে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা বা আয়োজন না করে সাধারণভাবে এ রাতে কবরস্থানে যাওয়া এবং মৃত ব্যক্তিদের জন্যে দোয়া করা, দরুদ-ইস্তেগফার পাঠ করে দোয়া করা। এবং এই রাতে জাগ্রত থেকে আল্লাহর ইবাদত তথা কুরআন তেলাওয়াত করা, অধিকহারে দরুদ শরীফ পাঠ করা এবং নফল নামাজ পড়া। তবে নামাজের জন্য কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বরং সামর্থ্যানুসারে জামাত ব্যতীত অনির্দিষ্টভাবে নামাজ পড়া এবং নিজের জন্য ও সকল মুসলমানের জন্য ১৫ শাবান নফল রোজা রাখা। আল্লাহ আমাদের সকলকে পবিত্র শবে বরাতের পবিত্রতা রক্ষা করে ইবাদত বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। (আমিন)

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2021
WEB DEVELOPMENT BY KB-SOFTWARES