নোয়াখালী জেলার উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত জেলা কারাগারটি ১৯৭২ সালে স্থাপিত হলেও বিগত ৫৩ বছরে কোনো উল্লেখযোগ্য সংস্কার বা আধুনিকায়ন হয়নি। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই কারাগার ডুবে যায়, চারপাশে জমে পানি এবং বন্দি ও দায়িত্বরত কারারক্ষীরা ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। এ ছাড়া কারাগারে বন্দির সংখ্যা ধারন ক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ।কারা সূত্রে জানা গেছে, পুরাতন অবকাঠামো ও সড়ক সংস্কারের অভাবে বর্ষায় প্রধান প্রবেশপথ ডুবে যায়। নিচু ভূমি ও দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকা ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টির পানি কারাগারে প্রবেশ করে। এতে কারারক্ষীদের চলাচলে চরম অসুবিধা তৈরি হয়। তাছাড়া কারাগারের চারপাশে নিচু পেরিমিটার ওয়াল এবং অপ্রতুল বাউন্ডারি ওয়াল থাকায় বন্দিদের পালানোর শঙ্কা রয়েছে।নোয়াখালী জেলা কারাগার প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৭ সালে মাইজদি কোর্ট এলাকায়, পরে ১৯৭২ সালে বর্তমান অবস্থানে স্থানান্তর করা হয়। মোট জমি ৩৬ একর, যার মধ্যে পেরিমিটার ওয়ালের ভিতরে ৮.৫০ একর এবং বাইরে ২৭.৫০ একর। ৫৩ বছরে কিছু রাস্তা ও অবকাঠামো নির্মাণ হলেও অনেক ভবন সংস্কারহীন থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, কারাগারে ৮২৩ জন বন্দী রয়েছেন। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১ জন মহিলাসহ ৬ জন, মহিলা ৩ জনসহ ৫৭ জন বিনাশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এবং মহিলা ১ জনসহ ৯৭ জন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত।খাবারের মান সমন্বিত হলেও অনেক ভবনে ফাটল, বেরিয়ে পড়েছে রড, খসে পড়েছে পলেস্তারা। সাক্ষাতের ঘরও জরাজীর্ণ।
স্থানীয় নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মী ইমাম উদ্দিন বলেন, “সামান্য বৃষ্টিতেই প্রধান সড়ক ডুবে যায়, জলাবদ্ধতায় বন্দি স্বজনদের প্রবেশে সমস্যা হয়। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল এবং ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার পরিস্থিতি। দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন।”
নোয়াখালী জেলা কারাগারের কর্মকর্তা মো. ফরিদুর রহমান রুবেল জানান, “বৃষ্টি হলে খাদ্য সরবরাহ, চিকিৎসা ও চলাচলসহ সব কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়। গণপূর্ত বিভাগকে বহুবার চিঠি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।”জেল সুপার আ. বারেক ঢাকা বলেন, “কারাগারের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ করা জরুরি। নিচু ভূমি ও নির্মাণ ত্রুটির কারণে বর্ষায় পানি জমে যায়। পুনর্নির্মাণের জন্য ৩৫০ কোটি টাকার প্রকল্প জমা আছে। এটি অনুমোদিত হলে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান সম্ভব।”গণপূর্ত বিভাগের নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাছান বলেন, “বর্তমান অবস্থার বিষয়ে আমরা অবগত। বাজেট সীমিত থাকায় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে খাতে বণ্টন করতে হয়। তবে বিষয়টি উচ্চতর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কারাগার পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকায়নের প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park