
আরলিং হালান্ডের বিধ্বংসী হ্যাটট্রিকে লিভারপুলকে ৪-০ গোলে হারিয়ে এফএ কাপের সেমিফাইনালে উঠে গেছে ম্যানচেস্টার সিটি। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে পেপ গার্দিওলার দল একতরফা আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে এবং লিভারপুলকে কার্যত কোনো সুযোগই দেয়নি ঘুরে দাঁড়ানোর।
শনিবার (৪ এপ্রিল) ম্যানচেস্টার সিটির হোমগ্রাউন্ড ইতিহাদ স্টেডিয়ামে এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় দুই জায়ান্ট ক্লাব। ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই সিটির আক্রমণভাগ ছিল ভয়ংকর ধারাবাহিক ও কার্যকর, বিপরীতে লিভারপুলের আক্রমণ বারবার থেমে গেছে সুযোগ নষ্ট ও ছন্দহীনতার কারণে।
ম্যাচের ৩৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে সিটিকে এগিয়ে দেন হালান্ড। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দ্রুত আক্রমণ থেকে আবারও গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন নরওয়েজিয়ান এই তারকা স্ট্রাইকার, যা লিভারপুলের জন্য ম্যাচটিকে কার্যত অসম্ভব করে তোলে।
লিভারপুল কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তাদের ফরোয়ার্ডরা একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করেন। বিশেষ করে মোহাম্মদ সালাহ বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। তার একটি পেনাল্টিও রুখে দেন ম্যানচেস্টার সিটি গোলরক্ষক জেমস ট্র্যাফোর্ড। পাশাপাশি হুগো একিতিকে ও ডমিনিক সোবোস্লাইয়ের সুযোগগুলোও কাজে লাগাতে না পারায় ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে আর্নে স্লটের দল।
অন্যদিকে সিটির আক্রমণভাগ ছিল আরও বেশি সংগঠিত। জেরেমি ডোকু, রায়ান শেরকি এবং নিকো ও’রাইলির গতিময় সমন্বয়ে বারবার ভেঙে পড়ে লিভারপুলের রক্ষণভাগ। দ্বিতীয়ার্ধে দ্রুত আক্রমণ থেকে আন্তোনি সেমেনিও দারুণ এক লব শটে গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন এবং লিভারপুলের হতাশা আরও বাড়িয়ে দেন।
ম্যাচজুড়ে লিভারপুলের ডিফেন্সে ভুল ছিল চোখে পড়ার মতো। ভার্জিল ভ্যান ডাইক ও জো গোমেজের একাধিক ভুলে সুযোগ পেয়ে যায় সিটি, যার ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলে লিভারপুল।
এই বড় ব্যবধানে পরাজয়ের ফলে লিভারপুল কোচ আর্নে স্লটের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। চলতি মৌসুমে এটি তাদের অন্যতম বাজে হার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শক্তিশালী প্যারিস সেন্ট-জার্মেই'র বিপক্ষে কঠিন ম্যাচ খেলতে হবে তাদের, ফলে এই হারের প্রভাব কাটিয়ে ওঠা লিভারপুলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
অন্যদিকে পেপ গার্দিওলার দল টানা অষ্টমবারের মতো এফএ কাপ সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে, যা ইংলিশ ফুটবলে তাদের ধারাবাহিক আধিপত্য এবং শিরোপা প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থানেরই স্পষ্ট প্রমাণ।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park