সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কলাগাঁও সীমান্ত এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চলাকালে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ছড়া নদীর পূর্ব পাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবুল হাসেমের উপস্থিতিতে ইজারাবিহীনভাবে খনিজ বালি উত্তোলনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছিল। অভিযানে ৮টি বালি বোঝাই স্টিলবডি ট্রলার জব্দ এবং এক চাঁদাবাজকে আটক করা হয়।
তবে অভিযানের এক পর্যায়ে বালু চুরির সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্র দা, লাঠি, সোটা ও পাথর নিয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। পরে আটক ব্যক্তি এবং জব্দকৃত ট্রলার ছিনিয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হন বলে জানিয়েছেন ইউএনও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই বালু চুরির ঘটনার পেছনে রয়েছেন উপজেলার কলাগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পল্লী চিকিৎসক শামসুদ্দিন এবং চারাগাঁও এলাকার মামলার পলাতক আসামি যুবদল নেতা হাবিবুর রহমান হাবি ওরফে কাইল্যা হাবি। তারা প্রতিদিন ৫০-৬০টি স্টিলবডি ট্রলারে বালু উত্তোলন করে জামালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এই চক্রটি প্রতি ট্রলারে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে। চুরি করা বালি হাওরের দুর্গম এলাকায় জাহাজে তুলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। এভাবে তারা ইতোমধ্যে অর্ধ শত কোটি টাকারও বেশি বালু পাচার করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে সীমান্ত হাওর জনপদের সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন, শামসুদ্দিন ও হাবি চক্র বর্তমান সরকারের পতনের পর এলাকায় শাসন-শোষণ চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং মামলা-হয়রানির মাধ্যমে টাকা আদায়, চোরাচালান ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছেন তারা। একসময় দরিদ্র এই পরিবার বর্তমানে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসন ও থানা পুলিশের একাংশের উদাসীনতা ও যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এই বালু চুরি হয়ে আসছে। স্থানীয়রা জানান, শামসুদ্দিন পরিবারের সদস্যরা এবং কাইল্যা হাবি সীমান্ত এলাকায় আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন।
শুক্রবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল নেতা হাবি বলেন, আমি এসবের সাথে জড়িত নই, সব কিছু জানেন শামসুদ্দিন।
অন্যদিকে, তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শামসুদ্দিনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে এই চক্রের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আনিসুল হক। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে কেউ অপকর্ম করলে, তার দায়ভার আমি বা বিএনপি বহন করবে না।