মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গুমের অভিযোগে দায়ের হওয়া তিনটি পৃথক মামলায় সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজনকে আজ সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাদের ট্রাইব্যুনাল-১ এ নেওয়া হয়। শুনানি নেবেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। অন্যান্য সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা
ভোর থেকে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, এপিবিএনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোতায়েন দেখা যায়। কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও কাকরাইলসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যদেরও টহল দিতে দেখা গেছে।
প্রথম মামলার আসামি ১৭ জন
গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় করা এক মামলার আসামি ১৭ জন। এর মধ্যে রয়েছেন র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসানসহ আরও কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা।
এ মামলার তিন সাবেক র্যাব ডিজি— বেনজীর আহমেদ, এম খুরশিদ হোসেন ও মো. হারুন-অর-রশিদ পলাতক।
তালিকায় আরও আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
দ্বিতীয় মামলায় আসামি ১৩ জন
আরেক মামলায় শেখ হাসিনা, তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজিএফআইয়ের তিন সাবেক পরিচালক ও পাঁচ সাবেক মহাপরিচালক রয়েছেন।
তৃতীয় মামলায় চারজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা
গণ–অভ্যুত্থানের সময় রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবি ও পুলিশের চার সাবেক কর্মকর্তা আসামি। এর মধ্যে দুইজন বর্তমানে সেনা হেফাজতে ও দুইজন পলাতক।
পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী?
প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম জানান, আসামিরা স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হতে পারেন অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করবে। হাজির হলে তারা জামিন আবেদন করতে পারবেন। জামিন না হলে, কারা কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে কোন কারাগারে তাদের রাখা হবে।