প্রতি বছর বিপুল অর্থ ব্যয় করেও দেশের ব্যাংক খাত এখনও বড় ধরনের সাইবার ঝুঁকি থেকে মুক্ত হতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৩৬ শতাংশ ব্যাংক বর্তমানে সাইবার হামলার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে বলে সরকারের শঙ্কা।
২০২৪ সাল পর্যন্ত ব্যাংক খাতের সাইবার সুরক্ষায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৩ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট এবং ১ কোটি ৪৩ লাখ অগ্রিম হিসাব রয়েছে। পাশাপাশি শাখা, এটিএম, সিআরএম, এজেন্ট ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং কার্যক্রম দ্রুত বেড়েছে। তবে সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়ায় হ্যাকারদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছে ব্যাংকগুলো।
বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) জানিয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ১৪৫ থেকে ৬৩০ বার পর্যন্ত সাইবার হামলার শিকার হচ্ছে দেশের ব্যাংকগুলো। এর বড় অংশ আসে চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে, যদিও দেশের ভেতর থেকেও প্রায় ২ শতাংশ হামলা চালানো হয়।
ব্র্যাক ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক মাঈনুদ্দিন বলেন, অনেক ব্যাংক সফটওয়্যার ও টুলস কেনার পর সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে বিনিয়োগ করে না। আবার বোর্ড অনুমোদনের জটিলতায় প্রয়োজনীয় আপডেট পেতে দেরি হয়, আর এই সুযোগেই হ্যাকাররা আঘাত হানে।
বিআইবিএমের অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান আলম বলেন, সাইবার হামলার ধরন প্রতিনিয়ত পাল্টাচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি ও ডিভাইস চালু হলেও তাৎক্ষণিক আপডেট না থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। বড় ব্যাংকগুলো তুলনামূলক ভালো করছে, তবে ছোট ব্যাংকগুলো পিছিয়ে আছে।
তথ্য বলছে—
আইটি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, বড় ধরনের সাইবার হামলার পেছনে প্রায়ই ইনসাইডারদের সংশ্লিষ্টতা থাকে।
এ ধরনের হামলার পর ব্যাংকগুলোকে যে ব্যয়ের চাপ সামলাতে হয় তার মধ্যে রয়েছে—
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফুল হোসেন জানান, কোনো ব্যাংক যাতে গাফিলতি না করে সেজন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো ব্যাংক অপ্রস্তুত ধরা পড়লে বা কর্মকর্তার যোগসাজশ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park