
৪’শ বছরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বার তীর্থের দীঘিকে ঘিরে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের দু’দিন ব্যাপি পূণ্যস্নান মেলা শুরু হয়েছে।
জামালপুর সদর উপজেলার বাঁশচড়া ইউনিয়নের সামান্ত ঘেষা প্রতিবেশি এবং টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ীতে আজ ১৭ এপ্রিল শুক্রবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বারতীর্থের স্নান ও মেলা শুরু হয়েছে। স্নান চলবে দুই ব্যাপী । মেলা চলবে সপ্তাহ ব্যাপী।
শত বছরের অধিক সময় ধরে প্রতি বছর বৈশাখ মাসের অমাবস্যা রাতে থেকে শুরু হয়েছে দুই ব্যাপী তির্থেতে এ পূণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
প্রতিবছর টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ,জামালপুর, গাজীপুর ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের পুণ্যার্থীরা এ নির্দিষ্ট সময়ে মনোবাসনা পূর্ণ করার মানসে পূণ্য স্নানে অংশ নেয়। তারা চিনি কলা সহ বিভিন্ন দ্রবাদি জলে দান পূর্বক স্বীয় দেবতাকে তুষ্ট করার জন্য একাগ্রচিত্তে স্নান করে গ্লানি মুছে ফেলার প্রতিজ্ঞা করে।
অতীত ইতিহাস থেকে স্থানীয় লোকজনে নিকট থেকে জানান, নাটোরের জমিদার রাজা জগদীন্দ্র নাথ রায় বাহাদুরের গর্ভধারিনী মা কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে, অসুস্থবস্থায় বারটি তীর্থ স্থানের গঙ্গা জলে স্নান করার ইচ্ছা পোষণ করেন। তার বিশ্বাস ওই গঙ্গা জল সংগ্ৰহ করে স্নান করলে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। মায়ের ইচ্ছা পূরন করতে জমিদার ১২টি তীর্থ স্থান থেকে গঙ্গা জল সংগ্রহ করে বিশালকার দীঘি খনন করে সেই দীঘিতে ১২ তীর্থ স্থানের জল সংগ্ৰহ করে ।পরে দীঘির জলে তীর্থস্থানের সংগৃহিত জল ডেলে ওই দীঘির জলে মাকে স্নান করায়। এতে তার মা আরোগ্য লাভ করেন।
সেই সময় থেকে স্নান উৎসবে বিভিন্ন জেলা থেকে পুণ্যার্থীগন প্রতি বছর এ পূণ্য স্নানে অংশ নেয় তাদের মনোবাসনা পূর্ণ করার লক্ষ্যে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো স্নানোৎসবে অর্ধ লক্ষাধিক পূণ্যার্থীর সমাগম ঘটে।সেই সময় থেকে অঞ্চলিক ভাষায় বার তির্থী নামে মেলাটি পরিচিত ।
শোলাকুড়ীর স্থানীয় আদিবাসী সতীষ সাংমা , বলেন "এ উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় থাকে গ্রামীণ হস্তশিল্প, কুটির শিল্পসহ নানা সামগ্রীর সমাহার। মেলায় প্রসাধনী, খাবার, খেলনা, মিঠাই-মিষ্টান্ন, মাছ, ফার্নিচার কামাল কুমারদের সহ বিভিন্ন ধরনের দোকান সাজিয়ে বসে আছে। খাদ্যের মধ্যে চটপটি-ফুচকা, মিষ্টান্ন থেকে শুরু করে থেকে মুখরোচক নানা পদের খাবারের দোকানও। শিশুদের বিনোদনের জন্য আছে নাগরদোলা, চরকি, দোলনাসহ নানা আয়োজন। সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন সাইজের ছোট-বড় মিষ্টি। গ্রামীণ মেলা চলাকালীন সময়ের পাশাপাশি এ বছর সার্কাসসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়েছে।
পুর্বে এই মেলায় দেখা গেছে, স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের নাটক, যশোরের নবঞ্জনের যাত্রা পালা , কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে এসব ।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park