আদালত অবমাননার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া ছয় মাসের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) প্রকাশিত এই রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনা প্রতিদ্বন্দ্বী নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার উসকানি দিয়েছেন এবং ট্রাইব্যুনাল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়েছেন। একই মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা শাকিল আলম বুলবুলকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ে শেখ হাসিনা ও বুলবুলের ফাঁস হওয়া একটি কথোপকথন তুলে ধরা হয়, যেখানে শেখ হাসিনা মামলার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের ‘ভবিষ্যতে কাজে লাগানোর’ জন্য তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেন এবং ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেন। আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি বুলবুলকে ২২৭ জনকে হত্যার দৃঢ়সংকল্পের কথা জানিয়ে তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, ‘এ টিম’ নামে একটি অনলাইনভিত্তিক গ্রুপের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের গোপন সভায় এসব উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়। অডিওটি প্রথম গাইবান্ধার সাংবাদিক সুমন মিয়া পান এবং পরে এটি স্থানীয় সাংবাদিক ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেন বুলবুল।
প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শুনানি করেন এবং শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তি উপস্থাপন করেন। মামলায় অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে অভিমত দেন সিনিয়র আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামান।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে—একটি জুলাই-আগস্টের ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত অপরাধের জন্য, একটি গুম-খুনের অভিযোগে এবং আরেকটি ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park