
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জিয়া উদ্যানে দাফন করা হয়েছে। সেখানে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
এর আগে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী গাড়ি জিয়া উদ্যানে পৌঁছায়। এরপর ফ্রিজার ভ্যান থেকে মরদেহ নামিয়ে একটি ভ্যানে করে সমাধি চত্বরে নেওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুসরণ করে দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। দাফনের সময় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। খালেদা জিয়ার কবরে মাটি দেন তার বড় সন্তান তারেক রহমান।
এর আগে বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষ অংশ নেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।
জানাজার সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, তারেক রহমানসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, চীন, ইরান, কাতারসহ ৩২টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরাও জানাজায় অংশ নেন।
এর আগে এদিন সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার মরদেহ নেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুযায়ী লাল-সবুজ রঙের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে করে মরদেহ বহন করা হয়।
তার আগে বেলা ১১টার দিকে ছেলে তারেক রহমানের গুলশানের বাসা থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী ফ্রিজার ভ্যান মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে মরদেহ প্রথমে গুলশানে নেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি ও ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park