
দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে আবারও প্রশ্ন উঠছে—রাজনীতির ক্ষমতার কাছে কি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে আইনশাসন? অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতায় অনেক ক্ষেত্রেই আইনের প্রয়োগে দেখা যাচ্ছে শিথিলতা, বিলম্ব কিংবা ভিন্নমাত্রার আচরণ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসন সবার জন্য সমান হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায়, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে আইন দ্রুত ও কঠোরভাবে প্রয়োগ হলেও, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তা অনেক সময়ই নমনীয় হয়ে ওঠে। এতে করে সাধারণ জনগণের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হয়েছে কিংবা তদন্ত প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আইনের সঠিক ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। অন্যথায়, আইনের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচারও হুমকির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং কোনো প্রভাবের কাছে নতিস্বীকার করবে না। তবে বাস্তব চিত্রে তার প্রতিফলন কতটা হচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শেষ কথা:
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুশাসন ও গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে আইনের শাসনকে শক্তিশালী করা এবং রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা সময়ের দাবি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park