নিজস্ব প্রতিবেদক : আপনার এক ব্যাগ রক্ত বাঁচাতে পারে একটি প্রাণ — কথাটি শুধু একটি স্লোগান নয় এটি একটি বাস্তব সত্য। প্রতিদিন বাংলাদেশে হাজারো মানুষ দুর্ঘটনা অস্ত্রোপচার ক্যানসার বা থ্যালাসেমিয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হয়ে রক্তের অভাবে সংকটের মুখে পড়েন। আর এই সংকট থেকে একটি জীবনকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় শুধুমাত্র স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের কারণেই।
বিজ্ঞান বলছে একজন সুস্থ মানুষ প্রতি ১২০ দিনে শরীরে নতুন রক্ত তৈরি করে। একজন মানুষ একবারে সর্বোচ্চ ৪৫০ থেকে ৫০০ মিলিলিটার রক্ত দিতে পারেন যা তার শরীরের মোট রক্তের মাত্র ৮ থেকে ১০ শতাংশ। এই পরিমাণ রক্ত শরীর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পূরণ করে ফেলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন নিয়মিত রক্তদানের মাধ্যমে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়ে লোহিত রক্তকণিকার উৎপাদন বৃদ্ধি পায় শরীরে আয়রনের ভারসাম্য ঠিক থাকে এবং ফ্রি হেলথ চেকআপের সুবিধাও পাওয়া যায়।
অনেকের মনে প্রশ্ন রক্ত দান করলে কি কোনো ক্ষতি হয়। না যদি আপনি শারীরিকভাবে সুস্থ হন এবং ওজন ৫০ কেজির বেশি হয় তাহলে রক্তদান একেবারেই নিরাপদ। দানের আগে ও পরে কিছু খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় যাতে শরীর স্বাভাবিক থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞান রক্তদানে কোনো দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির প্রমাণ পায়নি।
রক্তদান শুধু শারীরিক উপকার নয় এটি মানসিক প্রশান্তির একটি বিরল অনুভূতি। কোনো অচেনা মানুষের জীবনের শেষ মুহূর্তে আপনি হয়ে উঠতে পারেন তার গোপন ফেরেশতা। রক্তদাতাদের অনেকে বলেন আমার রক্ত দিয়ে কেউ বেঁচে আছে এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
বাংলাদেশে বিভিন্ন রক্তদাতা সংগঠন যেমন সন্ধানী ক্লিন হার্ট ল্যাবএইড ব্লাড ব্যাংকসহ অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা ছড়িয়ে দিচ্ছে ঘরে ঘরে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মসজিদ অফিসে এখন রক্তদানের ক্যাম্প সাধারণ চিত্র হয়ে উঠছে।
রক্তদান কোনো ব্যথা নয় এটি একটি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। আপনি যদি সুস্থ হন তবে বছরে অন্তত দুইবার রক্তদান করুন। আপনার এই ছোট্ট পদক্ষেপই হতে পারে কারো জন্য একটি নতুন জীবন।
আপনার রক্ত কারো বেঁচে থাকার কারণ হোক