বর্তমান প্রজন্মের এক বিপজ্জনক আসক্তির নাম অনলাইন জুয়া। প্রযুক্তির অগ্রগতির সুযোগ নিয়ে তরুণরা এখন মোবাইল ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছে নানা ধরনের অনলাইন বেটিং, ক্যাসিনো ও গেমভিত্তিক জুয়ার প্ল্যাটফর্মে। দিনে দিনে এ আসক্তি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা টাকার লোভে কিংবা বিনোদনের ছুতোয় অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছে। প্রথমদিকে ছোট অঙ্কের টাকা দিয়ে শুরু হলেও পরে তা নেশায় পরিণত হয়। এতে নষ্ট হচ্ছে শিক্ষাজীবন, পরিবারে তৈরি হচ্ছে অস্থিরতা, বাড়ছে মানসিক চাপ ও অপরাধ প্রবণতা।
বাংলাদেশে প্রযুক্তির প্রসারে তরুণদের মধ্যে যেমন ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তেমনি এসেছে ভয়াবহ কিছু আসক্তিও। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে ভয়ানক যে আসক্তি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, তা হলো অনলাইন জুয়া। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগে দেশের হাজার হাজার তরুণ—বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও বেকার যুবক—প্রতিদিন এই নেশায় জড়িয়ে পড়ছে।
খেলার মাঠ থেকে শুরু করে রাস্তার মোড়, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, ভ্যানগাড়িতে বসেও অবাধে চলছে অনলাইন জুয়া। শুধু ছাত্র নয়, অনেকে চাকরিরত হয়েও রাতজেগে লাইভ জুয়া বা ক্র্যাশ গেম খেলছে, যা প্রভাব ফেলছে তাদের কর্মদক্ষতা ও পারিবারিক সম্পর্কে। আইপিএল, বিপিএল, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপসহ জনপ্রিয় সব খেলা সম্প্রচারকালে ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে অনলাইন জুয়া বা বিভিন্ন বেটিং সাইটের বিজ্ঞাপন।
অনলাইন জুয়া এখন শুধুমাত্র বিদেশি সাইটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দেশের ভেতরেই তৈরি হয়েছে শত শত ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল, এমনকি টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল, যেখানে তরুণদের বিভিন্ন লোভনীয় অফারের মাধ্যমে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুললেই এখন বিজ্ঞাপন হিসেবে পাওয়া যায় অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন প্লাটফর্ম। ‘১০ টাকা বেট করে ১০০০ টাকা জিতুন’—এমন স্লোগানে প্রতিদিন নতুন করে ফাঁদে পড়ছে শত শত যুবক।
প্রথমে মজা বা কৌতূহলের বশে শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা আসক্তিতে পরিণত হয়। কেউ কেউ ধার করে, কেউ বা পরিবারের টাকা চুরি করেও অনলাইন জুয়ায় অংশ নিচ্ছে। অনেকে আবার অবৈধ অ্যাপ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জুয়া সাইটে অংশ নিচ্ছে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করে।
বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে। কেউ কেউ পরীক্ষা বাদ দিচ্ছে, কেউ আবার মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। অনলাইন জুয়ার টাকা জোগাড় করতে না পেরে অনেক তরুণ জড়িয়ে পড়ছে চুরি, প্রতারণা, এমনকি সাইবার অপরাধে।অনলাইন জুয়ায় হেরে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে অনেকে বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার মত সিদ্ধান্ত।