
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার দূর্গম যমুনা নদীর চরে এ বছর লাল সোনা খ্যাত শুকনা মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দাম পেয়ে চরাঞ্চলের মরিচ চাষিদের মুখে আনন্দের হাঁসি ফুটে উঠেছে।
জানা যায়, কাজিপুর উপজেলা একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে ৬টি ইউনিয়ন যমুনা নদীর যমুনার চরে অবস্থিত।
কাজিপুর উপজেলার ইউনিয়নের কমবেশি শুকনা মরিচের চাষ হয়ে থাকে। তবে যমুনা নদীর চরের ইউনিয়ন গুলিতে শুকনা মরিচ চাষ বেশি হয়। প্রতিনিয়ত যমুনা নদীর চরের ইউনিয়নের মানুষ যমুনা নদীর ভাঙ্গণের সাথে লড়াই ও সংগ্রাম করে টিকে থাকে। যমুনার ভাঙ্গণে নিঃস্ব এসব মানুষের জীবন- জীবিকা চলে চরে উৎপাদিত নানা ফসলের উপর।
এক সময় ধূ ধূ বালু চরে তেমন কোনো ফসল উৎপাদন হতো না। ফলে তাদের অভাব অনটন লেগে থাকেতো। প্রযুক্তির উন্নয়নে এখন সে অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। চরের পলিমাটি এখন কৃষকের আশির্বাদে পরিণত হয়েছে। চরবাসি চরের পলিমাটিতে নানা ফসল উৎপাদন করে রীতিমত কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছে। ফলে চরের মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, এ বছর কাজিপুর উপজেলায় ৪৪০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। এরমধ্যে যমুনা নদীর চরের ৬ ইউনিয়নের চরাঞ্চলেই আবাদ হয়েছে ৭০ ভাগ। নতুন পলিমাটিতে মরিচ চাষ ভালো হওয়ায় কৃষকরা মরিচ চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ফলে লাল সোনা খ্যাত শুকনা মরিচ চাষ করে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। এ বছর মরিচের বাম্পার ফলন হওয়ায় ও ভালো দাম পাওয়ায় চরের কৃষকদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে।
তিনি আরও জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে চরের কৃষকরা মরিচ চাষে শুরু করেছে। মরিচের ফলন কিভাবে ভালো হবে সে বিষয়ে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ বছর চরাঞ্চলে স্থানীয় জাত, বেড গোল্ড, বিজলী প্লাস, বালিজুরি জাতের মরিচ চাষ হচ্ছে।
নাটুয়ারপাড়া গ্রামের মরিচ চাষি সাইদুল ইসলাম জানান, তিনি এ বছর ১ বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করেছেন। তার এই ১ বিঘা মরিচ ক্ষেতে চাষ করতে খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। শুকনা মরিচ বাজারে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫৩০ টাকা কেজি দরে। বর্তমান বাজার মূল্যে ৬০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
ভেটুয়া চর এলাকায় কৃষক ময়নাল হোসেন বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে এক বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করেছি। এরই মধ্যে ১ মণ কাঁচামরিচ বিক্রি করেছি। আরও দুই মণ মরিচ শুকিয়ে রেখেছি। এখন যদি শুকনা মরিচ বিক্রি করি তাহলে প্রায় এক লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারব।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park