একজন মেয়ের জীবনে বাবার অবস্থান একেবারেই আলাদা। তিনি শুধু পরিবারের উপার্জনকারী নন, তিনি মেয়ের কাছে ভরসার ছায়া, নিরাপত্তার দেয়াল আর জীবনের প্রথম নায়ক। জন্মের পর থেকেই বাবার উপস্থিতি মেয়ের বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে অপরিহার্য হয়ে ওঠে।
শিশুমনোবিজ্ঞানীরা বলেন, বাবা মেয়ের জীবনে এমন একটি চরিত্র, যিনি একই সঙ্গে রক্ষক, শিক্ষক এবং বন্ধু। ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে হাঁটতে শেখা থেকে শুরু করে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তে বাবার প্রভাব থাকে স্পষ্ট।
অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, বাবার স্নেহ ও যত্ন পাওয়া মেয়েরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে, জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শক্ত মনোবল তৈরি করতে পারে। বাবা শুধু ভালোবাসেন না, তিনি শেখান কীভাবে আত্মসম্মান নিয়ে দাঁড়াতে হয়, কীভাবে সঠিক-ভুল চিনে নিতে হয়।
মেয়েদের কাছে বাবার ভালোবাসা একটু অন্যরকম। মায়ের ভালোবাসা যেখানে কোমলতার, সেখানে বাবার ভালোবাসা দৃঢ়তার। একজন মেয়ে বাবার কাছে নির্ভীক হয়ে উঠতে শেখে, তার ভরসার হাত ধরে স্বপ্ন দেখতে শেখে।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, বাবার সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক যত মজবুত হয়, তার মানসিক বিকাশও তত সমৃদ্ধ হয়। অনেকেই বাবার কাছে খুঁজে পান আজীবনের প্রেরণা, আবার অনেকের কাছে বাবা মানেই কঠিন সময়ে আশ্রয়ের নিরাপদ ঘর।
একজন মেয়ে হয়তো সবসময় বাবাকে প্রকাশ্যে ভালোবাসা দেখাতে পারে না। কিন্তু জীবনের প্রতিটি ধাপে, প্রতিটি সিদ্ধান্তে বাবার প্রভাব থাকে নিঃশব্দে। এজন্যই বলা হয়, মেয়ের কাছে বাবা কেবল অভিভাবক নন, তিনি জীবনের প্রথম ও আজীবনের নায়ক।