মহেশখালী প্রতিনিধি: কক্সবাজারের মহেশখালীর উপকূলে অবস্থিত পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সোনাদিয়া দ্বীপ এখন অমানবিক লোভের শিকার। প্যারাবন ধ্বংস করে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে চিংড়ি ঘের তৈরি করছে একদল দখলদার। এই অমানবিক কর্মকাণ্ড শুধু জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে না, বরং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এক বড় পরিবেশগত হুমকির সৃষ্টি করছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পেতে সোনাদিয়ার প্যারাবন ছিল একটি প্রাকৃতিক ঢাল। অথচ, এই বনেই এখন আগুন লাগিয়ে বাণিজ্যিক ঘের তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের দুর্বল নজরদারি এবং অসাধু চক্রের প্রভাবের কারণেই এই ধ্বংসযজ্ঞ ঘটছে।
পরিবেশ আন্দোলন কর্মী শাহরিয়া ইয়ামিন বলেন, তিনি এ নিয়ে বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে কথা বলেছেন। আলোচনায় সোনাদিয়া দ্বীপে বন বিভাগ ও পুলিশের স্থায়ী বিট স্থাপনের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, “বন বিভাগকে সোনাদিয়া দ্বীপ পুরোদমে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে। কেবল একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি বাকি রয়েছে। এরপরই দ্বীপ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থায়ী প্রশাসনিক উপস্থিতি ও স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা ছাড়া সোনাদিয়া দ্বীপ রক্ষা সম্ভব নয়। সেই সঙ্গে চিহ্নিত দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সোনাদিয়ার জীববৈচিত্র্য চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলে।
স্থানীয় বন বিভাগ কর্মকর্তা বলেন , আগে আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্যোগে ঘের তৈরি হলেও এখন স্থানীয় বিএনপি নেতারা এই কাজ করছেন। সরকার পতনের পর গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এসব ঘের তৈরি করা হয়েছে। এসব ঘেরে আগামী জুন মাসে চিংড়ি চাষ শুরু হবে।
প্রতিবেশ সংকটাপন্ন দ্বীপের প্যারাবন ধ্বংসের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা। বেসরকারি সংস্থা নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্টের (নেকম) প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন ব্যবস্থাপক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, পেট্রল ঢেলে আগুনে বনাঞ্চল পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পাশাপাশি পাখির আবাসস্থল উজাড় হচ্ছে। দ্বীপের এই প্যারাবনে ২৫০ প্রজাতির মাছ, ১৫০ প্রজাতির শামুক–ঝিনুক, ৫০ প্রজাতির কাঁকড়া, ৪০ প্রজাতির চিংড়ি, ১৭০ প্রজাতির পাখি, ৫০ প্রজাতির বালিয়াড়ি উদ্ভিদ ও ১৫ প্রজাতির ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ, ৩ প্রজাতির ডলফিন, সামুদ্রিক কাছিম, মেছো বাঘ, শিয়াল, সাপ, গুইসাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর বসবাস রয়েছে। এখন অর্ধেকের বেশি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।