
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইরান ভারতের কাছে জব্দ করা তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ ফেরত চেয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে এই দাবির সঙ্গে যুক্ত করেছে তেহরান।
জানা গেছে, অ্যাসফেল্ট স্টার, আল জাফজিয়া এবং স্টেলার রুবি নামের তিনটি জাহাজ আগে জব্দ করেছিল ভারত। এর মধ্যে স্টেলার রুবির মালিকানা ইরানের, আর বাকি দুটি যথাক্রমে মালি ও নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী। বিধিবহির্ভূতভাবে জ্বালানি তেল পাচারের অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে আরব সাগরের ভারতীয় জলসীমায় এসব জাহাজ আটক করে ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। বর্তমানে সেগুলো মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাই বন্দরে রয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ডন-এর এক প্রতিবেদনে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, নয়াদিল্লিতে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এর কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। সেখানে ইরানের পক্ষ থেকে তিনটি ট্যাংকার ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি দেশটির জন্য জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর অনুরোধও জানানো হয়।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে রয়টার্স ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লিতে ইরানি দূতাবাস এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বে পরিবাহিত জ্বালানি তেল ও তরল গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয়। এ কারণে একে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় আক্রমণ চালায় এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী একাধিক ট্যাংকার জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও ভারতীয় জাহাজে হামলার খবর পাওয়া যায়নি। বরং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নির্দেশ দিয়েছেন হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী ভারতীয় জাহাজগুলোকে যেন লক্ষ্যবস্তু না করা হয়।
এই ‘ছাড়’ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মনিয়াম জয়শঙ্কর বলেছেন, এটি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই হয়েছে, এখানে গোপন কিছু নেই।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে ভারতের অন্তত চারটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকারকে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান, যা আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park