
যশোরের বেনাপোল রেলস্টেশনে ভারত থেকে আসা একটি মালবাহী কার্গো ট্রেনের ইঞ্জিনের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৩২০ পিচ নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার (১৯ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বেনাপোল সদর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
৪৯ ব্যাটালিয়নের বেনাপোল সদর বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার আজিজুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন ভারত থেকে আসা একটি মালবাহী কার্গো ট্রেনের মাধ্যমে মাদকের একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা রেলওয়ে পুলিশকে অবগত করে ট্রেনটিতে তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে ট্রেনের একটি বগির নিচে ইঞ্জিনের সঙ্গে বেঁধে রাখা ৩২০ পিচ ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত এস্কাফ সিরাপ সহ দুই প্রকারের ৩২০ বোতল মাদক উদ্ধার করা হয়। চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যহত থাকবে জানান তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেনাপোল রেলস্টেশন এলাকার দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কিছু অসাধু নিরাপত্তাকর্মীর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে ট্রেনযোগে মাদক চোরাচালান হয়ে আসছে। ভারতের বনগাঁ ও কলকাতা স্টেশন এলাকা থেকে চোরাকারবারীরা ট্রেনের বগির নিচে, এমনকি কখনও সিলগালা করা বগির ভেতরেও মাদক লুকিয়ে পাঠায়। পরে ট্রেন বেনাপোলে পৌঁছালে গভীর রাতে তা নামিয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারন সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দর ও রেলপথ ব্যবহার করে মাদক প্রবেশ রোধে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে আরও কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। এতে নিরাপদ বাণিজ্য হুমকির মধ্যে পড়ছে।
বেনাপোল ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, রেল ষ্টেশন থেকে বিজিবি সদস্যরা মাঝে মধ্যে মাদকের চালান উদ্ধার করলেও রেল পুলিশের সফলতা নেই। দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে হলে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান দমনে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
বেনাপোল রেল ষ্টেশন মাস্টার আইনাল হোসেন জানান, তিনি ভারতীয় কার্গো রেল থেকে মাদক উদ্ধারের বিষয়টি জেনেছেন। তবে এসব নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার দায়িত্ব রেল নিরাপত্তা কর্মীদের।
বেনাপোল রেল নিরাপত্তা পুলিশের কর্মকর্তা রানা ইসলাম মাদক উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সামনের দিনে কার্গো রেলে নজরদারি আরো বাড়ানো হবে। চেকপোষ্ট থেকে বেনাপোল রেল ষ্টেশন পর্যন্ত নিরাপত্তা প্রাচীরের জন্য উধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কে বা কারা কার্গো রেলে মাদক পাচার করছে সেসব চোরাকারবারীদের সনাক্তের চেষ্টা চলছেও বলে জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park