
আজ ২৫শে বৈশাখ। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির উজ্জ্বল নক্ষত্র বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই স্রষ্টা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদাসুন্দরী দেবী এবং বাবা ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। মাত্র আট বছর বয়সেই কবিতা লেখা শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে ১৮৯১ সাল থেকে বাবার নির্দেশে নদীয়া, পাবনা, রাজশাহী ও ওড়িশার জমিদারি তদারকির দায়িত্ব পালন করেন। কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে কাটানো দীর্ঘ সময় তার সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে। ১৯০১ সালে তিনি সপরিবারে শান্তিনিকেতনে বসবাস শুরু করেন, যা পরবর্তীতে হয়ে ওঠে জ্ঞান ও সংস্কৃতির এক অনন্য কেন্দ্র।
তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধসহ অসংখ্য গদ্য সংকলন। গল্প, কবিতা, উপন্যাস ও গানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়।
রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যজগৎ ছিল মানবচেতনা, সমাজবাস্তবতা ও আত্মঅন্বেষণের গভীরতায় পরিপূর্ণ। চারুলতা, বিনোদিনী কিংবা ‘গোরা’ উপন্যাসের স্বদেশচেতনার মতো চরিত্রগুলো আজও পাঠকের হৃদয়ে জীবন্ত। তার সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯১৩ সালে তিনি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন, যা বাংলা ভাষার জন্য বিশ্বমঞ্চে এক ঐতিহাসিক গৌরব।
দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সকাল ৯টায় থাকবে শিশুতোষ অনুষ্ঠান, সকাল ১০টা ৫ মিনিটে রবীন্দ্রসংগীতের আয়োজন ‘গীতবিতান’। সন্ধ্যা ৬টায় প্রচার হবে বিশেষ কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠান। রাত ৯টায় রবীন্দ্রনাথের গল্প অবলম্বনে নাটক ‘সম্পত্তি সমর্পণ’ প্রচারিত হবে। রাত ১০টায় সংবাদের পর থাকবে বিশেষ রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান এবং রাত ১১টায় প্রচারিত হবে ‘চিত্রাঙ্গদা’।
বিশ্বকবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা পাঠ ও রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনার নানা আয়োজন। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ স্মরণ করা হচ্ছে বাংলা সাহিত্যের এই মহীরুহকে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park