গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে বিদেশি ঋণ ছাড়ের পরিমাণ প্রায় ৪৩ শতাংশ কমেছে। তবে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১৬ শতাংশ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাইয়ে বিদেশি ঋণ ছাড় হয়েছে ২০ কোটি ২৭ লাখ ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছাড় হয়েছিল ৩৫ কোটি ৮৩ লাখ ডলার।
অন্যদিকে, ঋণ পরিশোধে গিয়েছে ৪৪ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের বেশি, যার মধ্যে ৩২ কোটি ৭৭ লাখ ডলার আসল এবং প্রায় ১১ কোটি ৯০ লাখ ডলার সুদ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই খাতে ব্যয় হয়েছিল ৩৮ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। ফলে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ।
প্রতিশ্রুত অর্থের ক্ষেত্রেও বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। জুলাইয়ে বিদেশি ঋণ ও অনুদান মিলে প্রতিশ্রুতি এসেছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের প্রথম মাসে ছিল মাত্র ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। তবে প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে ধস নেমেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাইয়ে ছাড় হয়েছিল ৪০ কোটি ৫৭ লাখ ডলার এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাইয়ে ছাড় হয়েছিল ৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
গত অর্থবছরে বিদেশি ঋণের অর্থছাড় দাঁড়িয়েছিল ৮৫৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলারে, যা এর আগের অর্থবছরের ১ হাজার ২৮ কোটি ৩৪ লাখ ডলার থেকে অনেক কম। বিপরীতে ঋণ পরিশোধ বেড়ে দাঁড়ায় ৪০৮ কোটি ৬৯ লাখ ডলারে। এর মধ্যে আসল ছিল ২৫৯ কোটি ৫১ লাখ ডলার এবং সুদ ১৪৯ কোটি ১৮ লাখ ডলার।
এদিকে বিনিয়োগের প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধিতেও উন্নতি নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬.৫২ শতাংশে। আগের মাস জুনে এই হার ছিল ৬.৪৯ শতাংশ। গত বছরের জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.১৩ শতাংশ, অর্থাৎ এক বছরে ঋণ প্রবাহ অর্ধেকেরও বেশি কমেছে।
অর্থনীতির প্রাণ হিসেবে পরিচিত বিনিয়োগ নতুন কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে চাঞ্চল্য আনে। অথচ চলতি ধারা বলছে, বিনিয়োগ এখন স্থবির। বিদেশি ঋণ ছাড় কমে যাওয়া ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ফেলেছে অস্বস্তিকর অবস্থায়।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park