বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি জামিউল হক খান জিসান নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী। মাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা ব্যর্থ হলে বাবার প্রতি ক্ষোভ জমে ওঠে তার মনে। সেই ক্ষোভ থেকে বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করে জিসান। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিন দিন আগে বাড়ির পাশে গোপনে গর্ত খুঁড়ে রাখেন তিনি।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও ওষুধ ব্যবসায়ী রাশিদুল হক খান সুমন (৪৭) ছিলেন নিহত ব্যক্তি। তার ছেলে জিসান (২৩) ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। বছরখানেক আগে স্ত্রী জুলিয়া খানমের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় সুমনের।
বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ মেনে নিতে না পেরে জিসান মাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু এতে ব্যর্থ হয়ে বাবার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে মারধরের শিকার হন তিনি। এর আগেই ফার্মেসি থেকে ২০টি ঘুমের ট্যাবলেট সংগ্রহ করে রেখেছিলেন জিসান। লাশ গুমের উদ্দেশ্যে তিন দিন আগে বাড়ির পাশে নির্জন স্থানে খুঁড়ে রাখেন গর্তও।
২০ আগস্ট রাতে বাবার সঙ্গে একই ঘরে ঘুমান জিসান। সেদিন রাতে এক গ্লাস পানিতে ২০টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বাবাকে দেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েন সুমন। আর সেই ঘুমই হয়ে ওঠে চিরঘুম। পরদিন দুপুরেও জাগ্রত না হওয়ায় স্থানীয়রা গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পান। প্রথমে স্বাভাবিক মৃত্যু ভেবে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
তবে পরে জিসানের আচরণে সন্দেহ হলে দাদা নুরুল হক খান (৮২) প্রশ্ন করেন। জিজ্ঞাসাবাদে নিজের বাবাকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে জিসান। এরপর স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
ঘাটাইল থানার ওসি মীর মোশাররফ জানান, জিসান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা নুরুল হক খান বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।