দক্ষিণ আফ্রিকার প্রখ্যাত ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকার একটি উক্তি নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ঘিরে। সেখানে বলা হয়, “একটি জাতিকে ধ্বংস করতে পারমাণবিক হামলার প্রয়োজন নেই, বরং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় প্রতারণার সুযোগ দিলেই যথেষ্ট।” এই বাণীকে ঘিরে শিক্ষা খাত নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।
দলের নেতারা বলছেন, দেড় যুগের আওয়ামী শাসনে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে গেছে। নতুন কারিকুলাম, পরীক্ষার পদ্ধতিগত পরিবর্তন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকলের বিস্তার, শ্রেণি কাঠামোর অকার্যকর রূপান্তর—সব মিলিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা পড়েছেন দিশেহারা অবস্থায়।
বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জাতির এই বিপর্যয়ের সময় ফিরে তাকাতে হবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শিক্ষানীতির দিকে, যিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে শিক্ষাকে দেখেছিলেন জাতি গঠনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে। তাঁর সময় গঠিত জাতীয় শিক্ষা কর্মশালা, উপদেষ্টা কমিটি এবং শিক্ষায় কারিগরি ও পেশাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি দেশের জন্য ছিল যুগান্তকারী।
তাঁর উত্তরসূরি বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে সরকার গঠন করে নারী শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক পদক্ষেপ নেন। চালু করেন ছাত্রীদের জন্য বৃত্তি ও বিনামূল্যে শিক্ষা, শুরু করেন “শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য” কর্মসূচি, যা দেশের ১২৫৫টি ইউনিয়নে বিস্তৃত হয়। আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয় এই উদ্যোগ, নিউ ইয়র্ক টাইমস ১৯৯৩ সালে লেখে, “Mrs. Zia is aggressively promoting education and vocational training, especially of girls.”
বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার রূপরেখার ২৪ নম্বর ধারায় শিক্ষাকে দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সেখানে বলা হয়েছে, “চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা, গবেষণা, মাতৃভাষা-নির্ভর শিক্ষা এবং ছাত্র সংসদ চালু করে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ার উপর জোর দেওয়া হবে।” জাতীয় বাজেটের ৫% শিক্ষায় বরাদ্দ রাখার অঙ্গীকারও করা হয়েছে।
দলটির নেতারা বলছেন, চব্বিশের গণবিপ্লব নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এখন প্রয়োজন ধ্বংসপ্রাপ্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে একটি নতুন, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলা। এ কাজে বিএনপি অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত বলেও জানানো হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park