
বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে দেশের বন্দর নিয়ে সম্পাদিত রাষ্ট্রীয় চুক্তির প্রতিবাদে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাওয়ের ঘোষণা অনুযায়ী প্রেস ক্লাব থেকে যাত্রা করা বাম গণতান্ত্রিক জোটের মিছিল কাকরাইল মোড়ে এসে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাকরাইল মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাদের মিছিল আটকে দেয়। এতে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা ধস্তাধস্তি হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতেও দেখা যায়।
বিক্ষোভকারীরা রাস্তার উপর বসে পড়লে দুই দিকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে তারা কাকরাইল এলাকা ছেড়ে যান এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে বাম জোট প্রেস ক্লাব থেকে যমুনা ভবন ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলে পুলিশ কাকরাইলে তাদের আটকে দেয়। তারা স্লোগান দেন— ‘আমার দেশের মোহনা, বিদেশিদের দেবো না’, ‘বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার বিদেশিদের হাতে হবে না’, ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’ ইত্যাদি।
বাম জোটের নেতারা অভিযোগ করেন, সরকারের ইজারা চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। তারা দাবি জানান, কোনোক্রমেই দেশের বন্দর বিদেশিদের হাতে দেওয়া যাবে না। প্রতিবাদী কর্মসূচিতে পুলিশের হামলায় কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা আহত হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয় এবং তাদের ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স জানান, এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেল ৪টায় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল এবং দাবি না মানলে পরবর্তীতে হরতাল–অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা সংক্রান্ত চুক্তির বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের এক বেঞ্চ ভিন্নমতপূর্ণ রায় দিয়েছে। জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তিটি অবৈধ ঘোষণা করলেও জুনিয়র বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার তা বৈধ বলে রায় দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি এখন হাইকোর্টের অন্য বেঞ্চে নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হবে।
গত ২৩ নভেম্বর বাম গণতান্ত্রিক জোট সরকারকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চুক্তি বাতিলের সময়সীমা দিয়েছিল। দাবি আদায় না হওয়ায় আজকের যমুনা ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park