জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এবার বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে। ইনস্টাগ্রামের রিলস ও সাজেশন সিস্টেমের আদলে প্ল্যাটফর্মটিতে আসছে একাধিক নতুন ফিচার, যা ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুককে আরও ব্যক্তিগত, আকর্ষণীয় ও সময়োপযোগী করে তুলবে বলে জানিয়েছে মেটা।
সবচেয়ে আলোচিত ফিচারগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘ফ্রেন্ড বাবলস’, যা দেখা যাবে রিলস ফিডে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের বন্ধুদের শেয়ার করা বা দেখা ভিডিওর আপডেট সহজে দেখতে পারবেন। পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে উন্নত এআই-চালিত সাজেশন সিস্টেম, যা ব্যবহারকারীর আগ্রহ, দেখা ভিডিও ও ইন্টারঅ্যাকশনের ভিত্তিতে কনটেন্ট সাজিয়ে দেবে।
ফেসবুক রিলস এখন আগের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি নতুন ও ট্রেন্ডিং ভিডিও দেখাবে। নতুন অ্যালগরিদম দ্রুত সময়োপযোগী কনটেন্ট সাজাবে, যাতে ব্যবহারকারী সর্বশেষ ঘটনাপ্রবাহ ও ট্রেন্ডে আপডেট থাকতে পারেন।
নতুন স্মার্ট সাজেশন সিস্টেম ব্যবহারকারীর পছন্দ বোঝার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করবে। আপনি কোন ভিডিও বেশি সময় ধরে দেখেন, লাইক করেন বা শেয়ার করেন—এসব তথ্যের ভিত্তিতে সাজেশন তৈরি হবে।
ব্যবহারকারীর সুবিধার্থে রিলস ভিডিওর নিচে যুক্ত হচ্ছে ‘Not Interested’ বোতাম। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা জানাতে পারবেন কোন ধরনের কনটেন্ট তাঁরা দেখতে চান না। পাশাপাশি ভিডিও সেভ করা ও ব্যক্তিগত কালেকশন তৈরির সুযোগও যুক্ত হচ্ছে।
রিলস ফিডে অগ্রাধিকার পাবে সাম্প্রতিক ও ট্রেন্ডিং বিষয়ভিত্তিক ভিডিও, যাতে ব্যবহারকারীরা ‘এই মুহূর্তে কী ঘটছে’ তা সহজে জানতে পারেন। একই সঙ্গে টিকটকের মতো প্রতিটি ভিডিওর নিচে দেখা যাবে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সাজেশন, যা মিল পাওয়া ভিডিও খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
মেটার প্রোডাক্ট প্রধান জগজিৎ চাওলা জানিয়েছেন, নতুন এআই সিস্টেম এখন কনটেন্ট শনাক্ত করতে আরও দক্ষ। যারা এআই-জেনারেটেড ভিডিও দেখতে পছন্দ করেন, তাদের সামনে এমন ভিডিও বেশি আসবে, আর যাঁরা আগ্রহী নন, তাঁদের জন্য এমন কনটেন্ট কম দেখানো হবে।
তিনি আরও বলেন, “এখন এমনকি OpenAI-এর Sora বা Midjourney দিয়ে তৈরি ভিডিওগুলোকেও সাধারণ ভিডিওর মতোই গুরুত্ব দেবে ফেসবুকের নতুন অ্যালগরিদম।”
ব্যবহারকারী যদি কোনো ভিডিও স্কিপ করেন বা ‘না পছন্দ’ করেন, ফেসবুকের সিস্টেম তা বিশ্লেষণ করে একই ধরনের কনটেন্ট কম দেখাবে। মেটার দাবি, এই আপডেটের মূল লক্ষ্য কেবল ভিডিও ভিউ বাড়ানো নয়, বরং মানুষের মধ্যে সামাজিক সংযোগ ও বন্ধুত্বের আবহ ফিরিয়ে আনা।
মেটার ভাষায়, “আমরা চাই ফেসবুক আবার এমন একটি জায়গা হোক, যেখানে মানুষ শুধু কনটেন্ট দেখে না, বরং একে অপরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে।”