
বাংলাদেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে রানিং শিক্ষার্থীর তুলনায় হলের সিট সংখ্যা বেশি। তবে, পড়ালেখা শেষ হলেও হলের সিট ছাড়তে চাননা শিক্ষার্থীরা। ফলে সৃষ্টি হয় কৃত্রিম সিট সংকট। গত ৭মে নতুন শিক্ষাবর্ষের (২০২৫-২০২৬) ক্লাস শুরু হয়োর কথা থাকলেও সিট সংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি। জানা গেছে, আবাসিক হলে স্নাতকোত্তর শেষ হওয়া শিক্ষার্থীদের অবস্থানই এ সংকটের জন্য দায়ী। অছাত্রদের হল থেকে বিদায়ের ক্ষেত্রে প্রশাসনের কালবিলম্ব ও অনীহাকেও দুষছেন অনেকে। আবাসিক ক্যাম্পাস হওয়ায়- সবার সিট নিশ্চিত না করে ক্লাস শুরু সম্ভব হচ্ছে না।
জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরে সবার আগে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। তবে সবার আগে ক্লাস শুরু করতে পারেনি। অন্যদিকে, পরে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করেও জাবির আগে নতুন শিক্ষাবর্ষের (২০২৫-২০২৬) ক্লাস শুরু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গত, ১২এপ্রিল প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু করেছে তারা (ঢাবি)। এ ছাড়াও, গত ৩মে চবি ও আগামী ১০মে রাবিতে ক্লাস শুরু হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, আগামী ১৭ জুন নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরুর তারিখ নির্ধারণ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ক্লাস শুরুর লক্ষ্যে আগামী ১৯মে’র মধ্যে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে, ঘোষিত তারিখে ক্লাস শুরু হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েই গেছে। অছাত্রদের হল থেকে বের করতে পারবেনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন- বলে মনে করছে শিক্ষার্থীরা। অছাত্রদেরহ হল থেকে বের করা কঠিন- বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রাধ্যক্ষ ।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন ব্যাচের ক্লাস শুরু করা যাবে না। ফলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হলগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ২০১৫-১৬ (৪৫ব্যাচ), ২০১৬-১৭(৪৬ব্যাচ), ২০১৭-১৮(৪৭ব্যাচ), ২০১৮-১৯(৪৮ব্যাচ) শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর শেষ হলেও শিক্ষার্থীদের অনেকে এখনো হলে আছেন। ক্যাম্পাসে আসার প্রায় এক দশক হতে চললেও হল ছাড়েননি ৪৫ব্যাচের অনেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগামী ৭মে ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্তটি জানার পর প্রভোস্ট কমিটি ও আমরা (হল সংসদ) আবাসন সংকটের কারণে এ তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। এরপর ৭মে’র পরিবর্তে ১৭জুন ক্লাস শুরুর তারিখ নির্ধারণ করে প্রশাসন।
শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক বলেন, অভ্যূত্থানের পর গণরুম, গেস্টরুম ও কৃত্রিম আবাসন সংকটের সংস্কৃতি চলে গিয়েছিল। কিন্তু, প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণে আবারও সংকট তৈরি হচ্ছে। প্রশাসন তাদেরকে ফেয়ারওয়েলের মাধ্যমে বিদায় জানাতে পারে।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, জুলাই অভ্যূাত্থান পরবর্তী সময় থেকেই আমরা শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসন নিশ্চিতের ব্যাপারে সহযোগীতা ও দাবি জানিয়ে আসছি। কেউ রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা অন্য কোন উপায়ে ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর যেন হলে না থাকে- আমরা সে দাবি জানিয়েছি। কিন্তু প্রশাসনের সক্ষমতার অভাবে অছাত্ররা হলে থাকছে।
এদিকে, আবাসন সংকটের দাবি অস্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ইদের আগে ক্লাস শুরু করলে অল্প কিছুদিনের মাথায় বাড়ি চলে যেতে হবে। এজন্য ক্লাস শুরু হয়নি।
কিন্তু, ছাত্রসংসদের ভিপি ইদের ছুটিকে ক্লাস পেছানোর কারণ হিসেবে জানালেও গতবছর দেখা গেছে, দূর্গা পূজার প্রথম দিন (মহালয়া) অর্থ্যাৎ, ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর নতুন ব্যাচের ক্লাস শুরু হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, আবাসন সংকটের বিষয়টি ঠিক নয়। আমাদের ভর্তি প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। এ কারণে তারিখ পেছানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতীতের ন্যায় এবারেও সময়মতো হল ছেড়ে যাবে।
তবে, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি সূত্র বলেন, আমরা ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করে ৭মে ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু, প্রভোস্ট কমিটি ও হল সংসদ জানায় হলে পর্যাপ্ত আসন ফাঁকা নেই। এ কারণে ক্লাস শুরুর তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর, ভর্তির সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ১০মে করা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park