
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ইতিহাস গড়ার পথে এগোচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে টপকে প্রথমবারের মতো রাজ্যটিতে সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে দলটি। ভোট গণনার সর্বশেষ প্রবণতায় বিজেপির বড় জয়ের আভাস স্পষ্ট হওয়ায় রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে সমর্থকদের বিজয় উল্লাস।
সোমবার (৪ মে) বিকেলে ২৯৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচনের গণনায় দেখা যায়, বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ১৯৪টি আসনে। বিপরীতে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে মাত্র ৯৪টি আসনে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ আসন। প্রাপ্ত প্রবণতা অনুযায়ী বিজেপি অনায়াসেই সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় বিজেপি সরকার গঠন করলে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন ‘ভূমিপুত্র’ বা বাঙালি নেতা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী পদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও সুকান্ত মজুমদার। এছাড়া প্রাক্তন সাংবাদিক ও রাজ্যসভার সাবেক সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তের নামও আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিজেপির বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ শীর্ষ নেতারা ইতোমধ্যে দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘খেলা শেষ’ এবং রাজ্যে বিজেপিই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত কাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেয়। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park