বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানসহ তাঁর পরিবারের মোট ৮ জন সদস্যের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছেন উচ্চ আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং আদালতের নির্দেশনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে যে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই মুহূর্তে দেশত্যাগ করলে চলমান অনুসন্ধান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তদন্তের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাঁদের বিদেশ গমন রোধ করা আবশ্যক। আদালতের এই আদেশ পাওয়ার পর ইমিগ্রেশন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দুদক কমিশন পূর্ণাঙ্গভাবে না থাকার সুযোগ নিয়ে একটি বিশেষ গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, কমিশনের লিগ্যাল উইংয়ের কিছু কর্মকর্তা ও আইনজীবী অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের অভিযুক্তদের বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
আগামীকাল সোমবার আদালতকে ব্যবহার করে বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আদেশ জারির অপতৎপরতা চালাচ্ছে সক্রিয় এই সিন্ডিকেট চক্রটি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরেও যদি কোনো প্রকার আইনি মারপ্যাঁচে তাঁদের বিদেশ যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়, তবে তা বিচার ব্যবস্থাকে অবজ্ঞা করার শামিল হবে। এতে দুদকের স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা হলেন: আহমেদ আকবর সোবহান (শাহ আলম) – চেয়ারম্যান, বসুন্ধরা গ্রুপ। আফরোজা বেগম – স্ত্রী, আহমেদ আকবর সোবহান। সাদাত সোবহান – আহমেদ আকবর সোবহানের পুত্র। সোনিয়া ফেরদৌসী সোবহান – পুত্রবধূ (সাদাত সোবহানের স্ত্রী)। সায়েম সোবহান আনভীর – পুত্র, আহমেদ আকবর সোবহান। সাবরিনা সোবহান – পুত্রবধূ (সায়েম সোবহান আনভীরের স্ত্রী) এবং সাফিয়াত সোবহান সানভীর ও সাফওয়ান সোবহান।