
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাঁচঠাকুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রক্সি ডিউটি করে নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগে এক শিক্ষককে ২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে একই ঘটনায় অভিযুক্ত আরেক শিক্ষক এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে তদন্ত ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে।
জানা যায়, ঘটনার দিন পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সহকারী শিক্ষক আলাউদ্দিন সন্দেহভাজন আচরণ করলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ৭৩(২)(খ) অনুযায়ী তাকে ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে আরও ৭ দিন কারাদণ্ড) দেন।
একই ঘটনায় প্রকৃত দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক এনামুল হকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের হলেও আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও তাকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং এখনো চার্জশিট দাখিল হয়নি।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও দ্রুত কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত শিক্ষককে রক্ষা করার চেষ্টা এবং বেতন-ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অধ্যক্ষ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রমজানের ছুটির কারণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্তের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কারাগারে থাকা শিক্ষক আলাউদ্দিনের স্ত্রী অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে জোর করে প্রক্সি ডিউটিতে পাঠানো হয়েছিল। তিনি বলেন, আমার স্বামী সহজ-সরল মানুষ। এনামুল স্যার তাকে নিজের পরিবর্তে পাঠিয়েছিলেন। এখন আমার স্বামী জেলে, কিন্তু এনামুল স্যার কোনো খোঁজও নিচ্ছেন না।
তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক এনামুল হক দাবি করেছেন, নির্বাচনের দিন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তবে তিনি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাননি বলে স্বীকার করেছেন। তার নিয়োগপত্র কীভাবে অন্যের কাছে গেল—এ বিষয়ে স্পষ্ট জবাব না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park