
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি বা ছুটি দিতে হলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক—সম্প্রতি পাঠানো এক সরকারি চিঠিতে এমন নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের পাঠানো চিঠিটি ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের কাছে পৌঁছেছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে নির্বাচন পরিচালনার জন্য রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ বিভিন্ন স্তরের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্রয়োজন হবে। এজন্য সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান—এমনকি প্রয়োজনে বেসরকারি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও মানবসম্পদ নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনের কাজে সহযোগিতা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব। নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ অনুসারে, কোনো কর্মকর্তা নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত হলে তিনি ওই দায়িত্ব শেষে অব্যাহতি না পাওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রেষণে থাকার হিসেবে বিবেচিত হবেন।
এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৪৪৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা যাবে না।
চিঠিতে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তফসিল ঘোষণার পর ইসির পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি বা ছুটিতে না পাঠানো হয় এবং এমন কোনো কাজে নিয়োজিত করা না হয় যা নির্বাচনি দায়িত্বে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park