
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের সুনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের টানা ছয় দিনের অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ছুটি ছাড়াই অনুপস্থিতি এবং পূর্বের অভিযোগগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষক অলি গত ২৫ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ছয় দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, প্রথমে তিনি মুঠোফোনে তিন দিনের জন্য অনুপস্থিত থাকার কথা জানালেও পরবর্তীতে আরও তিন দিন অতিবাহিত হলেও তিনি বিদ্যালয়ে যোগ দেননি। এ সময়ের মধ্যে কোনো লিখিত ছুটির আবেদন কিংবা উপজেলা শিক্ষা অফিসে অবহিত করার তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, এর আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ উঠেছিল। তবে সে সময় দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নিয়মিত সময় অনুযায়ী ক্লাস নেন না। দেরিতে বিদ্যালয়ে আসা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা জানায়।
যদিও এসব বিষয়ে অনেকে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, হাজিরা খাতায় উপস্থিতির স্বাক্ষর থাকলেও বাস্তবে উপস্থিতি নিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে বিষয়টি নিয়ে অনেকে খোলাখুলি কথা বলতে চান না বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক অলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে অবহিত করেছেন এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করবেন। তবে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখান, তিনি বলেন , আমি ঢাকায় চিকিৎসায় এসেছি। তোমরা সাংবাদিকদের কাজ নেই, মাঠে গিয়ে ফসলি জমি কৃষকের কাজ কর।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, উক্ত ছুটির বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এর আগেও অনুপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও দায়িত্বশীলতা শিক্ষার মান নিশ্চিত করার মূল ভিত্তি। এ ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত ও যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park