অনেকে বিশ্বাস করেন, “ডান হাত চুলকালে টাকা আসে”, আবার কেউ কেউ এটিকে কুসংকার বলে উড়িয়ে দেন। আজকের দিনে বেশিরভাগ মানুষ এগুলোকে অবিশ্বাস হিসেবে নেন, তবে অতীতে এসব ছিল মানুষের সাধারণ বিশ্বাসের অংশ। যেমন খেতে গিয়ে বিষম লেগে গেলে বলা হতো, কেউ নিশ্চয় আপনাকে স্মরণ করছে। ঘর থেকে বেরোতে গিয়ে যদি দরজার চৌকাঠে বাধা পাই, তখন বসে থাকার পরামর্শ দেওয়া হতো, নইলে অমঙ্গল হবে।
প্রাচীনকালের আরও কিছু বিশ্বাসে দেখা যায়, একবার খাবার মুখে নিলে পানিতে পড়তে হয়, ডান হাত চুলকালে টাকা আসে, জোড়া কলা খেলে যমজ সন্তান হয় – এইসব। তবে এসব বিশ্বাসের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। যেমন যদি সত্যিই ডান হাত চুলকালে টাকা আসত, তাহলে সবাই চুলকানোর অপেক্ষায় থাকত।
দুই হাজার বছর আগে লেখা কালিদাসের ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম্’ নাটকেও এই ধরনের বিশ্বাসের উদাহরণ আছে। তপস্বীদের আশ্রমের কাছে রাজা দুষ্মন্ত শিকার করতে গিয়ে হঠাৎ ডান চোখের পাতা কাঁপতে থাকে। খানিক পরে তা প্রেমের সম্ভাবনার সূচক হিসেবে প্রমাণিত হয়। মৈমনসিংহের গীতিকাব্য ‘দেওয়ানা মদিনা’-তেও ঘটনার এই অলক্ষণ উল্লেখ আছে।
বিজ্ঞান এই ধরনের বিশ্বাসকে কাকতাল বা মনস্তাত্ত্বিক ঘটনার ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করে। যেমন কোনো ঘটনা বারবার ঘটলে মানুষ তা বিশ্বাস করার প্রবণতা দেখায়। অতীতের বিশ্বাস যেমন ঘরে বাদুড় ঢুকলে অসুখ হয় – আজকের বিজ্ঞান দেখিয়েছে, বাদুড় ভাইরাস বহন করতে পারে। অর্থাৎ কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বাসে সত্যতার আঁচ মিলতে পারে, কিন্তু সেটি সর্বজনীন বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক নয়।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে তার মনোযোগ ও মনোভাবও জড়িত। দিনের শুরুতে খারাপ কিছু দেখলে পুরো দিনটির সফলতা ঢেকে যেতে পারে। তাই সংস্কারের বিধিনিষেধ সব সময় মানা প্রয়োজন নয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এগুলো কাজকে সুন্দরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, তাড়াহুড়া করে বেরোতে গিয়ে কোনো বাধা পাওয়া – তখন একটু থেমে ধীরেসুস্থে বের হওয়াটাই কার্যকর।
শেষে আরও কিছু মজার কুসংকারের উদাহরণ দেয়া যায় – ইঁদুরের গর্তে দুধদাঁত ফেললে সুন্দর দাঁত হবে, দুধে পিঁপড়া ভাসলেও খেতে সমস্যা নেই, ফলের বিচি গিলে ফেললে পেটে গাছ হয় না, মাথায় ঠোক্কর খেলে বাড়ি লাগাতে হবে না, শুয়ে থাকা মানুষের উপর দিয়ে যেতে নেই – এতে সে লম্বা হয় না, বালিশে বসলে পশ্চাদ্দেশে ফোড়া হবে না।
পৃথিবীর সব অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের বিশ্বাস-অবিশ্বাস বদ্ধমূলভাবে মানে। যদিও আজ এগুলো কুসংকার হিসেবে দেখা হয়, তবে মানুষের মনের সঙ্গে এগুলোর গভীর সম্পর্ক এখনও আছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park