
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের ফাড়াবাড়ি বাজারে দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে গায়ের জোরে কাজ বন্ধ, নির্মাণাধীন দেয়াল ভাঙচুর, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বহিস্কৃত নেতা আবু তালেবসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী ইখতিয়ার আহমেদ (৩১) আকচা ইউনিয়নের ফাড়াবাড়ি এলাকার আহসান উল্লাহর ছেলে। অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন, ছুট বঠিনা এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে বিএনপি নেতা আবু তালেব (৪৫), তার ভাই মোতালেব (৪০), আজিজুল হকের ছেলে নুর আলম (৩৫), মৃত লতিফের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩৪), দেলোর ছেলে মো. শিমুল (২৫), দক্ষিণ বঠিনা গ্রামের ইজ্জত আলীর ছেলে আব্দুর মান্নান (৪৫), বৈকন্ঠপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফা (৩৩), মো. রুহুল আমিন (৩৫) ও বিলপাড়া গ্রামের মোবারক আলীর ছেলে মোশারফ হোসেন (৪৫)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ইখতিয়ার আহমেদ তার ক্রয়কৃত ও পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে রয়েছেন। তবে একই এলাকার আবু তালেবসহ কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমি জবরদখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন। গতকাল বিকেলে ইখতিয়ার আহমেদ তার জমিতে একটি দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধভাবে সেখানে অনধিকার প্রবেশ করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। এ সময় নির্মাণাধীন দোকানঘরের প্রায় সাড়ে তিন ফুট উঁচু ইটের দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন ভুক্তভোগীকে ধাক্কা দিয়ে জমি থেকে বের করে দেন এবং জমিটি নিজেদের বলে দাবি করেন। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর হাতে থাকা অ্যান্ড্রয়েড ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভিডিওটি মুছে ফেলেন। পরে তারা ভবিষ্যতে জমিতে কোনো কাজ করা কিংবা থানায় অভিযোগ দিলে প্রাণে মেরে লাশ গুম করার হুমকি দেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হামলার ভয় দেখানো হয়। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ইখতিয়ার আহমেদ বলেন, এই জমি আমার পৈত্রিক সম্পদ। আমি বৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণ করছিলাম। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক কাজ বন্ধ করে দেয়, দেয়াল ভেঙে দেয় এবং আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমি চাই আইন নিজের গতিতে চলুক এবং এ ধরনের জবরদখল ও হুমকি বন্ধ হোক।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আবু তালেব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই জমি নিয়ে আগে কোনো সমঝোতা হয়নি। আমরা চাই বিষয়টি আইনের মাধ্যমেই সমাধান হোক। কাউকে ভয় দেখানো বা মারধরের অভিযোগ সত্য নয়। আমি জমির দাবি করেই সেখানে গিয়েছি।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত আবু তালেব দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন জমি সংক্রান্ত বিরোধে জড়িয়ে রয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইখতিয়ার আহমেদ তার নিজস্ব জমিতে দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে হঠাৎ আবু তালেব লোকজন নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে জোরপূর্বক নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। প্রকাশ্যেই নির্মাণাধীন দেয়াল ভাঙচুর করা হলেও ভয়ের কারণে কেউ তখন প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ওই জমি নিয়ে আগেও বিরোধ ছিল। আবু তালেব প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই মুখ খুলতে চান না। কেউ নিজের জমিতে কোনো কাজ শুরু করলেই ভয়ভীতি দেখানো হয়। এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবু তালেব ও তার সহযোগীরা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে রেখেছেন। তারা বলেন, রাজনীতির নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যার জমি, সে তার জমিতে কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এখানে জোরপূর্বক বাধা দেওয়া হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park