টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলে মাদকে ছয়লাব হয়ে পড়েছে। হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার করতে গিয়ে হয়রানিতে পড়তে হয়েছে পুলিশ প্রশাসনকে। শহরের বেবিস্ট্যান কান্দাপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী পরিচালনাকারী অনিতা ও লতা এরা অদৃশ্য ছত্রছায়ায় প্রকাশ্যে তুলেছেন মাদকের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তাদের বাসায় দিন-রাত সমানভাবে প্রকাশ্যেই চলে মাদক কেনাবেচা। সেই সাথে সেখানে বসেই চলে মাদক সেবন। টাকা দিলেই যেকোনো বয়সের যে কেউ পায় হেরোইন, মদ ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক। অনেক স্কুল কলেজের ছেলে ছাত্র ও মাদকাসক্ত ব্যাক্তিরা নিচ্ছে দেদারসে মাদক। তাদের এই মাদক বিক্রির হাটে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই চলে ভয়ভীতি হুমকি ও নির্যাতন। এমন অনেক ভুক্তভোগীরা বলছেন অদৃশ্য এক শক্তি তাদের ছায়া দিয়ে রেখেছে। সেই শক্তি বলয়ে থানা পুলিশও অসহায় এদের কাছে। এদের বিরুদ্ধেও মাদকসহ নানা অপকর্মের ডজন ডজন মামলা আছে।
বর্তমানে পুলিশ প্রশাসন অভিযান করে থাকলেও বন্ধ হয়নি মাদক ব্যবসা। ওই অদৃশ্য শক্তির নিকট থানা পুলিশও কিছুটা অসহায়। অভিযান করে অদৃশ্য শক্তির কাছে মিথ্যা হয়রানিতেও পড়তে হয়েছে থানা পুলিশকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকাশেই চলছে মাদক বিক্রি। তাদের ভয়ে গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলছে না প্রতিবেশীরা। এমনি কি মাদকের বিষয়ে জানতে চাইলে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথেও অসাদচরন করেন অনিতা ও লতা। তবে সেখানকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বলছে এসকল মাদক কারবারির নিকট ছিনতাইকারী ও চোর আছে। যারা তাদের নিয়মিত কাস্টমার। কেউ এদের বিরুদ্ধে মুখ খুললে নেমে আসে নির্যাতন ও হয়রানি। তাদের কারণে এলাকায় চুরি ছিনতাই বেড়েছে। যুব সমাজ আজ ধংসের মুখে। কেউ প্রতিবাদ না করায় দিন দিন তাদের সাহস বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে গোপনে মাদকের হাট অনিতা ও লতার বাড়ির সামনে ও মাঠে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। অনেকটা প্রকাশেই হাতে মাদকের পুটলি নিয়ে হেরোইনের পুরিয়া দিচ্ছেন সেবনকারীদের কাছে। সদর থানার বেবিস্ট্যান সংলগ্ন আইডিয়াল স্কুলের পাশেই মাঠে ও বাড়ির সামনে বসে লোক ডেকে এ ভাবেই প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে ওই এলাকার অনিতা ও লতার নিয়োগ করা লোকজন আর টাকা নিচ্ছে অনিতা ও লতা। এ ভাবে দিনরাত ২৪ ঘন্টা বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার উপর রমরমা মাদক ব্যবসা চলছে। বাড়ির সামনেই এ যেন মাদকের হাট বসেছে এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। প্রতিদিন হেরোইন, মদসহ বিভিন্ন মাদক কিনতে আসছে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ওই মাদক বিক্রির স্পর্টে। মাদকের নেতৃত্বে ৫ থেকে ১০ জন মাদক কারবারি রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত মাদক ব্যবসা করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে আছে অনেকেই।
এবিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, বেবিস্ট্যান কান্দাপাড়া ও মুচি পট্টি এলাকায় মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা, অনিতা ও লতা। তবে অনিতা ও লতার নেতৃত্বে রমরমা মাদক ব্যবসা চলছে। অনিতার কিছু নারী ও পুরুষ এখন মাদকের রমরমা ব্যবসায় লিপ্ত।। এরা সবাই বর্তমানে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। এদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মাদক মামলাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী বলেন, মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করলেই উল্টা মাদক কারবারিরা হুমকি দিয়ে থাকে, বেশি কথা বললে উল্টা মাদক দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দেবে বলে হুমকি দেয়।
প্রকাশেই তারা বলেন পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রনসহ সবাইকে ম্যানেজ করে ব্যবসা করি। তাদের মাদক বিক্রির কারনে এলাকার যুবকরা মাদক আসক্তে জড়িয়ে পড়ছে। দ্রুত এসব মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যুবসমাজ ধংস হয়ে যাবে। নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এলাকার একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বলেন, যুব সমাজ আজ মাদকের ভয়াল থাবায় ধংসের মুখে। এটা এই এলাকায় এখন ছয়লাব হয়ে গেছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলাকাবাসী বলেন, আমরা আমাদের ওয়ার্ডে মাদকের বিরুদ্ধে সব সময় অবস্থান নিয়ে থাকি। কিছু শক্তিশালী চক্র এসব মাদক কারবারিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ দিচ্ছে। আমরা এসব বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। প্রশাসন চাইলে আমরাও সহযোগীতা করবো।
জানতে চাইলে সদর থানার (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা তানভীর বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। মাদক কারবারিরা আটক হয়। আবার তারা জেল থেকে বের হয়ে মাদক ব্যবসায় লিপ্ত হয়। তিনি আরো বলেন আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।