
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে রাজনীতিতে ‘মুক্তিযুদ্ধ কার্ড’ থাকবে যতদিন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী তাদের নিঃশর্তভাবে অপরাধ স্বীকার না করবে। তিনি বলেন, এই রাজনৈতিক কার্ডটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবতাও অস্বীকার করা যাবে না।
বৃহস্পতিবার নিজের ‘জাহেদ টকস’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের লোকজন ফৌজদারি অপরাধে জড়িত ছিল, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তার ভাষায়, তারা কোলাবরেট করতে গিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধে জড়িত হয়েছিল।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের বক্তব্য এবং জামায়াত ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যাপক কথাবার্তা ও বিতর্ক হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে যে বিএনপি আবার মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে ভুল করছে এবং এতে সমাজে বিভক্তি তৈরি হবে। এমনকি কেউ কেউ বলছেন, বিএনপি এভাবে আওয়ামী লীগ হয়ে উঠছে এবং এই কারণে বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষতি হবে।
এই বক্তব্যের সমালোচনা করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, যারা এসব কথা বলছেন তারা মূলত বিএনপিকে পছন্দ করেন না এবং তারা বিএনপিবিরোধী মানুষ। তিনি আগেও এই বিষয়ে একই কথা বলেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, গণতন্ত্র মানেই একটি রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হওয়া। তবে এই বিভাজনের ক্ষেত্রে শর্ত রয়েছে। বিভাজন এমন হতে পারবে না, যা ঘৃণা উৎপাদন করে কিংবা অন্যের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার হরণ করে। তিনি বলেন, পৃথিবীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থাকার অর্থই হলো তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক চিন্তা রয়েছে এবং সেই চিন্তার ভিত্তিতে তারা মানুষকে নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করে, যা এক ধরনের রাজনৈতিক বিভাজন।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার সময়কালে যে ধরনের বিভাজন করা হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, সেই বিভাজনের মাধ্যমে ঘৃণা তৈরি করা হয়েছে এবং মানুষকে হত্যাযজ্ঞের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মানুষের মানবিক অধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park