লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বাসিন্দারা নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে ভুলুয়া নদী খননের কাজ শুরু করেছেন, যা ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গত ২৪ জুলাই শুরু হওয়া এই উদ্যোগে মাত্র ২০ দিনে প্রায় আড়াই কিলোমিটার নদী খনন সম্পন্ন হয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী খননে প্রয়োজন প্রায় ৩০ কোটি টাকা হলেও, এলাকাবাসী নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা তুলে প্রাথমিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
নদী খননের উদ্যোক্তা শফিকুল ইসলাম জানান, কেউ মসজিদভিত্তিক মাইকিং করে, কেউ বাড়ি বাড়ি গিয়ে তহবিল সংগ্রহ করছেন। ইতিমধ্যে কয়েক লাখ টাকা তোলা হয়েছে, যা দিয়ে এক্সকেভেটর ও শ্রমিক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। অনেক শ্রমিক বিনা পারিশ্রমিকে সহযোগিতা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ উদ্যোগের ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত হচ্ছে এবং ঘরবাড়ি থেকে জমে থাকা পানি নেমে যাচ্ছে, ফলে চাষাবাদে সুবিধা হবে।
বর্তমানে নদীর অনেক অংশ পলি জমে ভরাট হয়ে আছে, আবার কোথাও অবৈধ বাঁধ দিয়ে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এর ফলে টানা বৃষ্টি বা মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারে গ্রাম তলিয়ে যায় এবং দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকতে হয়। খনন শুরু হওয়ায় পানির স্রোত ফিরতে শুরু করেছে, যা এলাকার জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) লক্ষ্মীপুর জেলা কার্যালয় জানিয়েছে, ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভুলুয়া নদীর প্রস্থ স্থানভেদে ১০০ থেকে ১৭৬ মিটার। নদীটি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার ২০টি ইউনিয়নের প্রধান পানি নিষ্কাশনের পথ। ভরাট হয়ে যাওয়ায় গত বছর বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ-জামান খান জানিয়েছেন, নদীর লক্ষ্মীপুর অংশে খননের জন্য প্রায় ৩০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত সরকারি বরাদ্দে খনন কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, “এলাকাবাসীর উদ্যোগে কাজ শুরুর ফলে পানির প্রবাহ বেড়েছে। আমরা প্রশাসনিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে এ উদ্যোগকে টেকসই করতে চাই।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park