
দেশে জঙ্গি আছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে বর্তমানে কোনো জঙ্গি তৎপরতা নেই। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) একই দিনে সরকারের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ভিন্ন দুই ধরনের বক্তব্য সামনে এসেছে, যা নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সচিবালয়ে পিআইডির সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে জঙ্গি রয়েছে। তবে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায়নি যে জনগণকে আতঙ্কিত হতে হবে। তিনি দাবি করেন, অতীত সরকারের সময়ে জঙ্গি ইস্যু নিয়ে অতিরঞ্জিত প্রচার চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘দেশে জঙ্গি নেই’ এমন বক্তব্যও পুরোপুরি সঠিক ছিল না।
অন্যদিকে, কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে বাহিনীর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে বর্তমানে কোনো জঙ্গি তৎপরতা নেই। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী আমলে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ‘জঙ্গিবাদ’ শব্দটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে এ ধরনের কোনো তৎপরতা নেই, তবে পৃথিবীর সব দেশেই কিছু উগ্রবাদী বা মৌলবাদী গোষ্ঠী থাকে এবং বাংলাদেশেও এমন কিছু গ্রুপের অস্তিত্ব রয়েছে।
এদিকে, রাষ্ট্রীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা তালিকায় থাকা ১৬১১ জন জঙ্গি বর্তমানে আবার মাঠে সক্রিয়। তাদের বড় একটি অংশ বিভিন্ন সময় জামিনে মুক্ত হয়ে নতুন করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে বলে উল্লেখ করা হয়। তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এক হাজার ২৩১ জন জঙ্গি জামিনে মুক্তি পেয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত জামিন পেয়েছে আরও ৩৮০ জন।
গোয়েন্দা তালিকার তথ্য বলছে, এই ৩৮০ জনের মধ্যে সাতজন আনসার আল ইসলাম, চারজন এবিটি, ৬৮ জন জেএমবি, ছয়জন নব্য-জেএমবি, ছয়জন হিযবুত তাহরীর, চারজন ইমাম মাহমুদের কাফেলা, চারজন হুজি, ১৫ জন জেএএফএইচএস এবং ২৬৫ জন নাম-উল্লেখ না থাকা সংগঠনের সদস্য। এছাড়া তাদের মধ্যে ১১৪ জন জামিন পাওয়ার পর থেকে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন না এবং আরও ৯৬ জনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় অভিযুক্ত অন্তত ৩৭০ জন জঙ্গি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় পলাতক জঙ্গিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় দেশের আটটি বিমানবন্দরসহ ১২টি কেপিআইভুক্ত স্থাপনায় সতর্কতা জারির পাশাপাশি বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সোমবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক গণমাধ্যমকে এই সতর্কতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গোয়েন্দা তালিকা অনুযায়ী, গত বছরের জুন পর্যন্ত দেশের ১৬টি কারাগারে ১৬২ জন জঙ্গি বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে বিচারাধীন ৩২ জন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫৯ জন, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৪৬ জন এবং অন্যান্য শ্রেণির ২৫ জন বন্দি রয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park