রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ ওঠার পর মোহাম্মদপুর থানার চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীর পোস্ট ভাইরাল হলে নড়েচড়ে বসে কর্তৃপক্ষ।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—ইউসুফ, সিয়াম ও জহুরুল।
ক্লোজড হওয়া চার পুলিশ সদস্য হলেন—এসআই জসিম উদ্দিন, এএসআই আনারুল, কনস্টেবল মাজেদুর রহমান ও মো. নুরুন্নবী।
ভুক্তভোগী আহমাদ ওয়াদুদ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড়ে ছিনতাইয়ের শিকার হন। ছিনতাইকারীরা তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। হামলার সময় চাপাতির কোপে আহত হন তিনি, যদিও তা গুরুতর ছিল না। তার স্ত্রী সাথে থাকলেও দূরে থাকায় নিরাপদে ছিলেন।
ছিনতাইয়ের মাত্র ৫ মিনিট পর তিনি মোহাম্মদপুর থানায় গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা তার অভিযোগ নিতে গড়িমসি শুরু করেন। অভিযোগ নিতে চাওয়ায় তাকে করা হয় অপমান, এমনকি তার পোশাক নিয়ে বিদ্রূপ করে কটূক্তিও করা হয়। অভিযোগ লেখার কাগজ-কলম পর্যন্ত সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।
এসআই জসিম উদ্দিন ভুক্তভোগীর অনুরোধ উপেক্ষা করে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি ওসি ইফতেখার হাসান ভুক্তভোগীকে দায়ী করে বলেন, “আমি ওসি হয়েও সস্তা ফোন ব্যবহার করি, আপনি এত দামী ফোন নিয়ে বের হলেন কেন?”
পরবর্তীতে এএসআই আনারুল ঘটনাস্থলে যেতে রাজি হলেও তার গাফিলতির কারণেই ছিনতাইকারীরা পুলিশের সামনেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
ভুক্তভোগীর এই অভিজ্ঞতা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রশ্ন তোলে এই ঘটনা। সমালোচনার মুখে ডিএমপি কর্তৃপক্ষ চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে এবং দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দেয়।
ওসি আলী ইফতেখার হাসান জানিয়েছেন, মোবাইল ফোন উদ্ধারের পাশাপাশি তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park