
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের চামড়া খাতে তারল্য সংকট কমাতে বড় ধরনের নীতিগত ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে পুনঃতফসিল করা ঋণের বকেয়া পরিশোধ না করলেও কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা নতুন করে কার্যকরী মূলধন ঋণ নিতে পারবেন। একইসঙ্গে চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সব তফসিলি ব্যাংককে পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মঙ্গলবার জারি করা সার্কুলারে বলা হয়, চামড়া শিল্প দেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী খাত হিসেবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিবছর কোরবানির সময় এই খাতের বড় অংশের কাঁচামাল সংগ্রহ হয়, ফলে ঈদকে কেন্দ্র করে অর্থায়নের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এই বাস্তবতায় ব্যাংকগুলোকে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্ক ও প্রচলিত নীতিমালার ভিত্তিতে যোগ্য ব্যবসায়ীদের ঋণ বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, পূর্বে পুনঃতফসিল করা ঋণ থাকলেও কোরবানির চামড়া কেনার জন্য নতুন ঋণ নিতে গেলে আগের সমন্বিত বকেয়া পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। তবে এই সুবিধা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে, অর্থাৎ ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে ২০২৬ সালের জন্য আলাদা ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের ঈদুল আজহার তুলনায় কম হতে পারবে না।
চামড়া সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় তৃণমূল পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের কাছে অর্থায়ন পৌঁছে দেওয়ার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একইসঙ্গে ৩১ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে ঋণ বিতরণ ও বাস্তবায়নের বিস্তারিত প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৪৫ অনুযায়ী এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক। এ উদ্যোগের ফলে মৌসুমি চামড়া বাজারে তারল্য সংকট কমবে এবং বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park