
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলনে কোনো ধরনের বিশ্রাম নেই। তিনি ঘোষণা দেন, আন্দোলন চলবে সংসদে, আন্দোলন চলবে রাজপথে। সংসদ ও রাজপথ যেদিন একাকার হয়ে যাবে, সেদিন কোনো শক্তিই জনগণের জোয়ার থামাতে পারবে না।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক গণ-সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে খেলাফত মজলিস এই গণ-সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে শফিকুর রহমান অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯৭১ সালে জনগণের রায়কে মান্য না করার কারণেই যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল এবং যারা সেদিন রায় অস্বীকার করেছিল তাদের পরিণতি ভালো হয়নি। এবার যারা গণভোটের রায় অস্বীকার করছে, তারাও নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের অংশ মনে করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জামায়াত আমির বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান করেই গণভোটের রায় মেনে নেওয়া উচিত। রায় বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে আর এই দাবিতে তাদের রাজপথে নামতে হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, যে মঞ্চে তারা দাঁড়িয়ে আছেন, সেই মঞ্চ কখনো আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদকে গ্রহণ করবে না। তিনি দাবি করেন, উপস্থিত জনতা দেশপ্রেম বুকে ধারণ করে প্রমাণ করেছে যে তারা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, একসময় যারা রাজপথে আন্দোলন করেছে, সরকারে যাওয়ার পর তাদেরই একটি অংশ অতীতের সংগ্রাম ভুলে গেছে। এজন্যই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আবার রাজপথে নামতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করায় জনগণ বাধ্য হয়েছে আন্দোলনে নামতে।
জামায়াত আমির বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কার্যকর আইনি পদ্ধতি হিসেবে গণভোটের কোনো বিকল্প নেই, এটি তারাই একসময় স্বীকার করেছিল। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচারের সময় শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি উল্লেখ করে জনগণকে দুটি ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল—একটি নির্বাচনে, অন্যটি গণভোটে। অথচ এখন সেই গণভোটকেই অবৈধ বলা হচ্ছে, যা সুবিধাবাদী আচরণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংসদে প্রশ্ন তুললে সরকার কখনো বলে তারা চারটির মধ্যে সাড়ে তিনটি মানে, কখনো বলে পুরো প্রক্রিয়াই অবৈধ। তিনি এ অবস্থানকে দ্বিচারিতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
সরকার গঠনের আগে সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এখন এক দলকে পাকিস্তানে পাঠানো হচ্ছে, অন্য দলকে আরব দেশে পাঠানো হচ্ছে এবং নিজেরাই দেশের জমিদার সেজে দখলদারিত্ব চালাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের জনগণকে স্মরণ রাখতে হবে দুটি শক্তিশালী স্লোগান—‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ এবং ‘দেশটা কারো বাপের নয়’। তিনি দাবি করেন, শত শত আলেম-ওলামার আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে এবং সেই ইতিহাসের সঙ্গে বেইমানি করা হবে না।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park