নোয়াখালীর বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক বদিউজ্জামান তুহিনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার তিন বছরেরও বেশি সময় পার হলেও মামলার বিচার প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখেনি। বরং আসামি এখনো এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাতটার দিকে বেগমগঞ্জের কাদিরপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাজার পাকা ব্রিজের পাশে ওঁত পেতে থাকা স্থানীয় সন্ত্রাসী সালাহ উদ্দিন ও তার সহযোগীরা সাংবাদিক বি. চৌধুরী তুহিনের ওপর হামলা চালায়। এসময় তারা তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে যায়। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাকে উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পরপরই তুহিন বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে আসামিদের গ্রেফতার না করার অভিযোগ ওঠে। নিরুপায় হয়ে তিনি নোয়াখালীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। কিন্তু সেখানেও পিবিআই কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র পাল ঘুষের বিনিময়ে পক্ষপাতমূলক রিপোর্ট দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় মূল আসামি ইউপি চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় থেকেই নানা অভিযোগ ছিল। ওয়ান ইলেভেনের সময়কার কুশীলব হিসেবেও তার নাম আসে। দুই মাস আগে যৌথ বাহিনীর হাতে এক ঘণ্টার জন্য আটক হলেও রহস্যজনকভাবে অচিরেই মুক্তি পান তিনি। বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা সালাহ উদ্দিন প্রকাশ্যেই এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
এ ঘটনায় সাংবাদিক মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছে, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলার বিচারহীনতা শুধু আইনের শাসনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকেও মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park