চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে দেশের অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের আভাস মিললেও সামনে নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। তাদের সাম্প্রতিক মাসিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিনিয়োগ স্থবিরতা, শিল্প খাতের দুর্বলতা ও বৈশ্বিক প্রতিকূলতা এখনো প্রবৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে আছে।
বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে ৩.৩ থেকে ৪.১ শতাংশ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৩.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। আগামী অর্থবছরে ৫.১–৫.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা কমলেও চালের দামে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর পেছনে ক্রমবর্ধমান উপকরণ ব্যয়, ফসল-পরবর্তী ক্ষতি, পরিবহন খরচ এবং অনুমানভিত্তিক মজুতদারিকে দায়ী করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জিইডি জরুরি সরবরাহ ব্যবস্থা তদারকির ওপর জোর দিয়েছে।
অর্থনীতির বহিরাঙ্গন খাত কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখালেও অভ্যন্তরীণ খাতের দুর্বলতা রয়ে গেছে। রেমিট্যান্সে বৃদ্ধি এবং টাকার সামান্য মূল্যবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও রাজস্ব আদায়ে ভাটা পড়েছে। এনবিআর জানিয়েছে, পুনর্গঠনের কারণে জুন মাসে রাজস্ব সংগ্রহে ঘাটতি হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতও চ্যালেঞ্জের মুখে। মূল্যস্ফীতি, কড়া মুদ্রানীতি ও আমদানি খরচ হ্রাসের প্রভাবে ছয় মাস ধরে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের নিচে রয়ে গেছে।
জিইডি মনে করছে, রপ্তানি, রেমিট্যান্স এবং উৎপাদন বৃদ্ধিই জিডিপি প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হবে। তারা বলছে, ভবিষ্যতের ধাক্কা সামলাতে এখনই উদ্ভাবন, বিনিয়োগ বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আরিফ খান
Developed by Shakil IT Park